Stone Syndicate

টুলুর নির্দেশে সরানো হচ্ছিল নথি, ফাইল বোঝাই গাড়ি আটকাল স্থানীয়েরা, বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ

সূত্রের খবর, ওই ফাইল পাথর ব‍্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাতে চালান, কাকে কত পরিমাণ পাথর দেওয়া হয়েছে, ট্রাকের কাগজপত্র, খাদান সংক্রান্ত নথি, ডিসিআর গেটের নথি, খাতা ইত্যাদি রয়েছে। তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। সেখান থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাথর ব‍্যবসার বিপুল ফাইল বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫৯

পাথর মাফিয়া টুলুর নির্দেশ— সব ফাইল সরিয়ে ফেলতে হবে। বসের নির্দেশ মেনে সরানো হচ্ছিল ফাইল। নদোহরি এলাকায় বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিন শেখের খামারবাড়ি থেকে ফাইল বোঝাই গাড়ি স্থানীয়েরা আটকে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বস্তা বোঝাই ফাইলগুলি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছে। অন‍্য দিকে, টুলুর ভগ্নিপতি মহম্মদ মিনার মন্ডলকে সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হলে পুলিশ আট দিনের জেল হেফাজতে পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মহম্মদবাজার থানায় নদোহরি এলাকায় একটি বোলেরো গাড়ি আটক করে পুলিশ। সেই গাড়ির ভিতরে প্রচুর বস্তা ছিল। সেই বস্তার মুখ খুলতেই ভিতরে বিপুল পরিমাণে ফাইল বেরিয়ে আসে। সূত্রের খবর, ওই বস্তার ভিতরে টুলুর বালি আর পাথর ব‍্যবসার নথি ছিল। এক স্থানীয়ের দাবি, তিনি জানতেন যে ওই এলাকায় পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডলের খামারবাড়ি রয়েছে। কিন্তু এইটাই যে টুলুর বাড়ি তা জানতেন না। এর পরে ওই বাড়ি থেকে একটি সাদা রঙের বোলেরো গাড়ি বেরোতে দেখে সন্দেহ হয়। তার পরে তা থামান। গাড়ি খুলতেই পিছনে প্রচুর ফাইল দেখতেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ওই খামারবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন সুজিত বর্ম নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, “আমি ফাইলগুলি তুলে দিয়েছিলাম। গাড়ির চালক এসে আমাকে নির্দেশ দিয়েছিল। তাই আমি বস্তাগুলি গাড়িতে তুলে দিয়েছি।” ওই বাড়িতে টুলু মন্ডল আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গাড়িতে চেপে তিনি মাঝেমধ্যে আসতেন।”

পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিন শেখের ম‍্যানেজার পার্থসারথি ঠাকুর ফাইল আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, “সকালে তার কাছে ফোন এসেছিল। বস (টুলু মন্ডল) বলেছে, তোমার কাছে কাগজপত্র আছে? যা আছে তুলে সব গাড়িতে রেখে দাও।” কোথায় সেই ফাইলগুলি সরানো হচ্ছিল, তা নিয়ে কিছু জানাননি। বলেন, “কোথায় নিয়ে যেতে হবে তা নিয়ে কোনও নির্দেশ আসেনি।”

সূত্রের খবর, ওই ফাইল পাথর ব‍্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাতে চালান, কাকে কত পরিমাণ পাথর দেওয়া হয়েছে, ট্রাকের কাগজপত্র, খাদান সংক্রান্ত নথি, ডিসিআর গেটের নথি, খাতা ইত্যাদি রয়েছে। তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। সেখান থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন‍্য দিকে, মিনার মন্ডলকে সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হয়েছে। সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, টুলু দেশের বাইরে পালিয়ে গিয়েছে। সেখান থেকে বসেই যাবতীয় নির্দেশ দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ মিনার মন্ডলের বাড়িতে যায়। গোপন সূত্রে খবর পেই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সেখানেই বিপুল পরিমাণ টাকার হদিশ মেলে। বুধবার সকালে মিনারের বাড়িতে পাঁচটি টাকা গণনার মেশিন এবং তিনটি টিনের ট‍্যাঙ্ক আনা হয়। সেখানে এখনও টাকা গোনার কাজ চলছে। পুলিশ সূত্রের খবর, মিনারের বাড়ি থেকে ২৫টি ব‍্যাগ উদ্ধার হয়েছে। আলমারির ভিতরেরও কিছু ব‍্যাগ ছিল। তাতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছিল। মোট ২৮ কোটি টাকা গণনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মহম্মদ মিনার মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।


Share