TMC-BJP Clash

বড়জোড়ার তাজপুরে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ! একাধিক বাড়ি ভাঙচুর, দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, জখম বেশ কয়েক জন

ঘটনায় পাঁচ থেকে ছয় জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি। পাল্টা তৃণমূলও হামলার অভিযোগ তুলেছে।

আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপির স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:৫০

বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ার বড়জোড়ার তাজপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গ্রামে একের পর এক বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, বিজেপির স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় পাঁচ থেকে ছ’জন বিজেপি কর্মী জখম হয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। যদিও তৃণমূলের তরফে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েক জনকে মারধর করেছে। দুই দলের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে বিজেপির একটি দলীয় কর্মসূচি ছিল। তাতে যোগ দিতে তাজপুর গ্রাম থেকে তিনটি বাসে করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে যান। বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েই গ্রামে হামলা চালানো হয়। একাধিক বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয়। বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আক্রান্ত পরিবারের সদস্য আয়েষা বিবির বক্তব্য, আচমকাই একদল লোক তাঁদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কে বাড়ির লোকজনকে ছোটাছুটি করতে হয়।

এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় বিজেপি কর্মী রেজাউল মণ্ডল পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি কর্মীরা দুর্গাপুরে যাওয়ার পর তাঁদের বাড়িঘরকে নিশানা করা হয়। বিজেপি নেতা সায়দার মণ্ডলের অভিযোগ, বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়েও আগুন লাগানো হয়েছে। বড়জোড়া তিন নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি ধনঞ্জয় গরাইয়ের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে বিজেপির তোলা অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। পাল্টা আক্রমণের অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা আমজাদ। তাঁর দাবি, প্রথমে বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালান। ভাঙচুরের পাশাপাশি দলের একাধিক কর্মীকে মারধরও করা হয়েছে। ফলে তাজপুরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দুই রাজনৈতিক শিবিরের বয়ানে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি।


Share