Theft From Mandir

কলকাতায় দশমীর রাতে মন্দিরে ঢুকে লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরি, হাওড়া থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত, উদ্ধার মায়ের অলঙ্কার

সেই সময় পুজো কমিটির কোনও প্রতিনিধিও সেখানে ছিল না বলে জানা গিয়েছে। সদস্যদের দাবি, মায়ের পরনে থাকা নদ, চুড়ি নিয়ে চম্পট দেয় চোর। সবকটি অলঙ্কারই সোনার ছিল। যার বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে দাবি করেছে পুজো কমিটির এক সদস্য।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১০:২৫

আদতে বোতল কুরোনো কাজ। সেই ছলনায় মন্দিরে ঢুকে লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরির করে চম্পট দেয় চোর। বিজয়া দশমীর রাতে খাস কলকাতায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। সেই ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। মায়ের গায়ে থাকে চুরি হয়ে যাওয়া গয়নাগুলিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিজয়া দশমীর রাত তখন আড়াইটে। ঘটনাস্থল উত্তর কলকাতার ২০ পল্লি সর্বজনীন দুর্গাপূজা। বিজয়া দশমীর রাতে চারিদিক ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক ব‍্যক্তি মন্দির চত্বরে ঢুকে পড়ে। মা দুর্গা, মা লক্ষ্মী, মা সরস্বতীর পরনে থাকা সমস্ত অলঙ্কার চুরি করে। সেই সময় পুজো কমিটির কোনও প্রতিনিধিও সেখানে ছিল না বলে জানা গিয়েছে। সদস্যদের দাবি, মায়ের পরনে থাকা নদ, চুড়ি নিয়ে চম্পট দেয় চোর। সবকটি অলঙ্কারই সোনার ছিল। যার বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে দাবি করেছে পুজো কমিটির এক সদস্য। 

তবে মন্দিরকে বেষ্টনী করে সিসি ক্যামেরা বসানো ছিল। তাতে চোর কী ভাবে ভিতরে প্রবেশ করেছে, কীভাবে গয়নাগুলি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে তা গোটাটাই ধরা পড়েছে। পরের দিন সকালে পুজো কমিটির সদস্যরা মন্দিরে গেলে চুরির বিষয়টি নজরে আসে। এর পরেই জোড়াবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। চোরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি করা হয়। পাশাপাশি চুরি যাওয়া মায়ের গয়না উদ্ধার করার দাবি জানায় পুজো কমিটির সদস্যরা।

জোড়াবাগান থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। মন্দিরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। এলাকায় বাকি সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। অবশেষে চোরকে চিহ্নিত করতে হন তাঁরা। 

পুলিশ সূত্রের খবর, চোরকে চিহ্নিত করে বুধবার সকালে হাওড়ায় অভিযান চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই গোপাল কেনেওবিল নামে অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করে। মায়ের চুরি যাওয়া সোনার গয়নাগুলির সবকটি তাঁর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। গোপাল ওই এলাকাতে বোতল কুড়োত। এর আগেও গোপালের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গোপালের একাধিক ঠিকানা রয়েছে। বিভিন্ন সময় ঠিকানা বদল করত। 

অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। এই বিষয়ে ২০ পল্লীর সম্পাদক তপন ঘোষ বলেন, “ওই দিন রাতে মন্দির থেকে মায়ের গয়না চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। শুনেছি সবকটি গয়না উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তা আইন মেনে ফিরিয়ে দেবে বলেছে। পুলিশের কাজে আমরা খুবই খুশি।”


Share