Calcutta High Court

আদালতের নির্দেশে থমকে গেল কলকাতা পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা! ১৪৪ থেকে ২০৯ ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ ডিভিশন বেঞ্চের

শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। ফলে পুরভোটের প্রস্তুতি চললেও আপাতত ভোটের দিন ঘোষণা করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০২:০৮

কলকাতা পুরসভার নির্বাচন নিয়ে বড়সড় ধাক্কা। আপাতত ঘোষণা করা যাবে না পুরভোটের দিনক্ষণ। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। ফলে পুরভোটের প্রস্তুতি চললেও আপাতত ভোটের দিন ঘোষণা করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছে। এই পুনর্বিন্যাস আইন মেনে হয়নি বলে অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কসবার বাসিন্দা তথা সিপিএম নেতা দীপু দাস। তাঁর অভিযোগ, ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মামলাকারীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা দায়ের হয় হাই কোর্টে। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে দু'পক্ষের কাছে হলফনামা তলব করে। রাজ্যকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী দু'সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলা হয় মামলাকারীকে। কিন্তু মামলাকারীর আশঙ্কা ছিল, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে পুরভোট হয়ে গেলে মামলার আর কোনও গুরুত্ব থাকবে না। সেই যুক্তিতেই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন তিনি।

শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বৈধতা নিয়ে ফের প্রশ্ন ওঠে। মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, পুরসভা ভেঙে যাওয়ার পর পুর কমিশনারের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করার কোনও ক্ষমতা ছিল না। অন্য দিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র পাল্টা জানান, বর্ধিত ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় কেউ কোনও আপত্তি জানাননি।

দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, সিঙ্গল বেঞ্চে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না। অর্থাৎ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের আইনি জট না কাটলে আপাতত কলকাতা পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পথে এগোতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। ফলে পুরভোটের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।


Share