Poultry Farm

দীপাবলির আগে তামিলনাড়ুর পোলট্রি ফার্মে বিপর্যয়! একের পর এক মুরগির মৃত্যু, ক্ষতি অন্তত ৫০ হাজারের

দীপাবলির আগে তামিলনাড়ুর একাধিক পোলট্রি ফার্মে ৫০ হাজার মুরগির মৃত্যুতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮

দীপাবলির আগে পোলট্রি ব্যবসায় বড়সড় ধাক্কা তামিলনাড়ুতে। রাজ্যের একাধিক পোলট্রি ফার্মে অস্বাভাবিক ভাবে মুরগির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫০ হাজার মুরগির মৃত্যু হয়েছে। এর জেরে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামার মালিকরা। প্রাথমিক ভাবে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের আশঙ্কা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

ঘটনাটি তামিলনাড়ুর কুড্ডালোর জেলার। থিম্মানামপেট্টাই, তিরুচোপুরম এবং কুরিঞ্জিপাডি এলাকার একাধিক পোলট্রি ফার্মে এই বিপর্যয় ঘটেছে। জানা গিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে কুরিঞ্জিপাডি তালুকের কয়েকটি ফার্মে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মুরগির মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার পাওয়া খবর অনুযায়ী, সব মিলিয়ে মৃত মুরগির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

মৃত মুরগিগুলির শারীরিক অবস্থাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, অধিকাংশ মুরগির পা পিছনের দিকে বেঁকে যাচ্ছিল এবং ডানা দু’পাশে ছড়িয়ে পড়ছিল। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, Low Pathogenic Avian Influenza বা বার্ড ফ্লুর কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে মাধমরামের Pharmacovigilance Laboratory for Animal Feed and Food Safety (PLAFFS)-এর পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও এসে পৌঁছয়নি। ফলে সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ইতিমধ্যেই পশুপালন দফতরের আধিকারিকরা বিভিন্ন ফার্ম পরিদর্শন করেছেন। মুরগির খাবার ও জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। খাবার কিংবা জলের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। মৃত মুরগিগুলিকে নিয়ম মেনে সৎকার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট ফার্মগুলি থেকে আগামী তিন মাস কোনও মুরগি বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দীপাবলির আগে এমন বিপর্যয়ে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। মোহন নামে এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মুরগির খাবারের ৫০ কেজির বস্তা কিনতেই খরচ হয় ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ টাকা। বিদ্যুতের বিল বাবদ মাসে ২০ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়। উৎসবের মরসুমে ব্যবসার আশায় লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু একের পর এক মুরগির মৃত্যুতে সেই বিনিয়োগ কার্যত জলে গিয়েছে। এখন সরকারি পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিকরা।


Share