Murder

তান্ত্রিকের কথায় অন্ধবিশ্বাসের চরম পরিণতি! স্ত্রীকে মুণ্ডচ্ছেদ, বাবাকেও গলা কেটে খুনের অভিযোগ, বাঁকুড়ায় গ্রেফতার যুবক

বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকার এই ঘটনায় অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে দামোদর নদের চর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর স্ত্রী ও বাবার দেহ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৬

স্ত্রী ও বাবাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। এক তান্ত্রিকের প্ররোচনাতেই অন্ধবিশ্বাসের বশে ওই যুবক জোড়া খুন করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকার এই ঘটনায় অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সোমবার রাতে দামোদর নদের চর থেকে তাঁর স্ত্রী ও বাবার দেহ উদ্ধার হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের নাম রুম্পা চৌধুরী (৩৯) এবং রাজেন্দ্র চৌধুরী (৬০)। বাঁকুড়ার সোনামুখী ও পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা থানার সীমান্তবর্তী দামোদর নদের চরে অবস্থিত লাল বাবা মানাচর এলাকা থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তান্ত্রিকের কথায় প্রথমে নিজের আঙুল কেটে স্ত্রী রুম্পার মুণ্ডচ্ছেদ করেন মঙ্গল। এরপর তিনি স্ত্রীর কাটা মুণ্ডটি মন্দিরে রেখে দেন। পরে নিজের বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরীকেও গলা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গল ও তাঁর স্ত্রী নিয়মিত একটি মন্দিরে পুজো-অর্চনা করতেন। ওই দম্পতির বাড়িতে এক তান্ত্রিকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলেও দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের অনুমান, তান্ত্রিকের প্ররোচনা এবং অন্ধবিশ্বাস থেকেই অভিযুক্ত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই জোড়া খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মন্দিরে রুম্পার কাটা মুণ্ড দেখতে পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে খবর। খবর পেয়ে সোনামুখী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। এরপরই অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

এই জোড়া খুনের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তান্ত্রিকের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সম্পূর্ণ রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


Share