Baruipur Incident

‘এমন ভোগাব, বুঝতে পারবে,’ বারুইপুরের ঘটনায় আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুষ্কৃতীদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, “আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। প্রথমটার (খুন) তো সর্বচ্চ সাজা দেব। ওর বাবা যা যা চেয়েছেন, তা সব এই মুখ্যমন্ত্রী করবে। আমি সাথে সাথে ওদের সাথে ফোনে কথা বলেছি। আমি খুশি যে ওরা মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছে।”

ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৪:৩৯

রবিবার সকালে বারুইপুর থানা এলাকার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। তার পর থেকেই ওই এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেই ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, খুনের ঘটনা ছাড়া বাকি তিনটি যে ঘটনা ঘটেছে তাতে সাম্প্রদায়িকতা রয়েছে।

নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন সকাল থেকেই সুর্যপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। নাবালিকার দেহ উদ্ধার করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তাঁদের লক্ষ্য করে ভাঙা বোতল, ইটবৃষ্টি শুরু হয়। ঘটনায় অন্তত তিনজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জানান, দু’জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান জখম হয়েছেন। গতকালই এক রাজ‍্য পুলিশের কনস্টেবল বলেন, তাঁর পায়ে গোটা ইট এসে লেগেছে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে কার্যত গুন্ডামি চলে। শুধু সূর্যপুর নয়। নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর থানা এলাকার কিছু এলাকায় অশান্তি ছড়ায়। সোমবার সকালে ওই সমস্ত এলাকায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছেন বারুইপুরের মহকুমাশাসক। আবার রবিবার ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত‍্যা করা হয়। 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায় এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার দিক রয়েছে। মোট চারটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ‘জঘন্যতম’ অভিযোগ ছাড়া যে তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাতে কাউকে রেয়াত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাকি তিনটি বিষয়ে যারা জড়িত তাঁরা অতৃপ্ত আত্মা। তাঁরা ভোটে হেরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন। এখনও ঢুকেই আছে। এই তিনটি কান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে, এদেরকেও কিন্তু ভুগতে হবে।” এর পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমন ভোগাব, বুঝতে পারবে।”

অতীতেও বিভিন্ন ইস‍্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে হিসেবে রাজ‍্য সরকারের এই সমস্ত ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সরকারকে বিঁধেছিলেন। বারুইপুরের ঘটনাতেও সেই ঘটনা স্মরণ করে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “আগেও রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়েছিল। আমরাদের অতীতের ইতিহাস তাই বলছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা ওয়াকফ আইন নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছিল। ঠিক একই ভাবে এখানেও দু’জন সিআরপিএফের জওয়ান জখম হয়েছে।”

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর বাবা বিচার চেয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের সঙ্গে পলাতক দুই আসামির সঙ্গে কথপোকথন পুলিশ পেয়েছে। আইজির নেতৃত্বে পুলিশ এবং এসটিএফ কাজ করছেন। ওর পরিবার সরকারের কাছে যা দাবি করেছে, তা সরকার করছে। পরিবার যে ভাবে সরকার এবং পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন তা দেওয়া হবে। তদন্ত চলছে। তাই মাঝপথে বেশি কিছু বলা উচিৎ হবে না।”

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, “আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। প্রথমটার (খুন) তো সর্বচ্চ সাজা দেব। ওর বাবা যা যা চেয়েছেন, তা সব এই মুখ্যমন্ত্রী করবে। আমি সাথে সাথে ওদের সাথে ফোনে কথা বলেছি। আমি খুশি যে ওরা মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছে।”


Share