Baruipur Case

নাবালিকার দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে অশান্তি, ভাঙচুর, ১৬৩ ধারা জারি করল মহকুমাশাসক, তিনটি মামলা রুজু করল পুলিশ

প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই বলেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।” পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা বলেছেন। আগামীকাল পরিবারের সদস্যদের ভবানী ভবনে ডেকেছেন তিনি।

বারুইপুরের জারি হল ১৬৩ ধারা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ১১:২৪

বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় অশান্তি চলছে। অশান্তি বারুইপুরে আটকে নেই। সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় তা ছড়িয়েছে। এ বার সেই সমস্ত এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হল। গতকালের ঘটনা পরে তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তার পরেও অশান্তি অব্যাহত রয়েছে।

বারুইপুরের মহকুমাশাসক সোমবার সকালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এলাকায় সাধারণ কাজকর্মের ওপর শর্ত আরোপের কথা জানিয়েছেন। মহকুমাশাসক মুদ্রা গাইরোলা জানিয়েছেন, শনিবারের বারুইপুরের ঘটনার পরে সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। তাই এখন ওই এলাকায় পাঁচ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। লাঠি বা কোনও ধরনের অস্ত্র নিয়ে জমায়েত করা যাবে না। করা যাবে না কোনও মিটিং মিছিল। তবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে কি না তা নিয়ে স্পষ্ট করে জানা যায়নি। যদি এই নির্দেশিকা অমান্য করে যদি কোনও ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে তা হলে পিডিপিপি আইনের আওতায় অভিযুক্তের জরিমানা এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। তার জন‍্য বারুইপুর এবং সোনারপুরের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিককে ম‍্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করার নির্দেশও মহকুমাশাসক দিয়েছেন।

রবিবার সকালে সূর্যপুরেরে এলাকায় বস্তাবন্দি নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। শনিবার ওই নাবালিকা খাবার কিনতে বেরিয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে চারজন রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। কেউ কেউ ধর্ষণের অভিযোগ করছেন। তার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। ছোড়া হয় ভাঙা বোতল। কয়েক জন পুলিশকর্মী জখম হন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগও করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের দিন একটি ছেলের সঙ্গে ওই নাবালিকাকে দেখা গিয়েছিল। ওই যুবককে হাতে পেয়ে গণপিটুনি দেয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৪)। এক প্রভাস মন্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনায় তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি খুনের মামলা রয়েছে। নাবালিকার ময়নাতদন্ত হয়েছে। তবে ধর্ষণের মামলা এখনও যুক্ত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে তা স্পষ্ট করে জানা যাবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। অন‍্য দিকে, গণপিটুনির জেরে হত‍্যা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই বলেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।” পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা বলেছেন। আগামীকাল পরিবারের সদস্যদের ভবানী ভবনে ডেকেছেন তিনি। অন‍্য দিকে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেছেন।


Share