Baruipur Incident

‘আমি জানি না,’ বারুইপুরের ঘটনায় ধৃতেদের বয়ানে অসঙ্গতি, তদন্ত সহযোগিতা করছে না, মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করবে পুলিশ

স্থানীয়দের বক্তব্য, ওই ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরেই ওই যুবককে প্রভাস মন্ডল বলেই চিহ্নিত করে স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, প্রভাসকে নিয়েই রবিবার সকাল ৭টা নাগাদ ওই বাজার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে একটি পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৭

বারুইপুরের কিশোরীকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম— প্রভাস মন্ডল, দিবাকর সর্দার এবং আনন্দ সর্দার। প্রভাস মন্ডলের সঙ্গে কিশোরীকে দেখা যায়। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁকে জেরা করা হলেও বারবার বয়ান বদল করছেন। বলছেন, “আমি জানি না।”

ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নেতৃত্বে রয়েছেন। ঘটনার পরে এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, শনিবার বিকেল ৪টে ৪১ মিনিট নাগাদ সূর্যপুর বাজারের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে কিশোরীকে দেখা যাচ্ছে। তার কয়েক পা পিছনেই এক যুবক লাল টি শার্ট এবং মাথায় নীল রঙের টুপি যাচ্ছে। তার ঠিক তিন মিনিটের পরেই ওই যুবকের সঙ্গে হেঁটে আবার ফিরে আসছে ওই কিশোরী। স্থানীয়দের বক্তব্য, ওই ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরেই ওই যুবককে প্রভাস মন্ডল বলেই চিহ্নিত করে স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, প্রভাসকে নিয়েই রবিবার সকাল ৭টা নাগাদ ওই বাজার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে একটি পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সিপিএমের দাবি, ঘটনায় অভিযুক্তরা আরএসএস এবং বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। যদিও স্থানীয়দের একাংশ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানাচ্ছেন, এই প্রভাস এলাকায় মাদকাসক্ত বলেই পরিচিত। তবে জেরায় প্রভাসের বয়ানে বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। সূত্রের খবর, প্রথম থেকে প্রভাস কিছুই জানে বলে দাবি করছিল। পরে প্রভাস পুলিশকে জানায়, চারজন মিলে তাঁর কাছ থেকে কিশোরীকে নিয়ে চলে যায়। ধৃতদের মধ্যে কেবলমাত্র আনন্দকে চেনেন। কিশোরীর বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার পরিকল্পনা আনন্দ করেছিল।

তবে এখনও পর্যন্ত প্রভাসকে জেরা করে যে তথ্য পুলিশ পেয়েছে, তাতে প্রভাস বিভ্রান্ত করেছেন বলেই মনে করছে তাঁরা। কারণ, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, কিশোরী কেন প্রভাসের সঙ্গে ফিরে এল তার কোনও সদুত্তোর প্রভাস দিতে পারেনি। প্রভাস জেরায় দাবি করেছে, আনন্দই ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। তাহলে প্রশ্ন হল, প্রভাস যদি ঘটনাস্থলেই না থাকে তাহলে কে খুন করেছে তা তিনি কীভাবে জানলেন? পাশাপাশি কিশোরীর দেহ কোথায় রয়েছে তা-ও তিনি কীভাবে জানলেন?

শুধুমাত্র প্রভাস নয়, বাকি অভিযুক্তদের বয়ানেও অসঙ্গতি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, অভিযুক্তরা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ছিল। যৌন নির্যাতনের পরে কেন খুন করা হল— তার কারণ হিসেবে দু’টি সম্ভাবনার দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এক, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তরা সবাই এলাকারই বাসিন্দা। তাই নির্যাতিতা অভিযুক্তদের শণাক্ত করে ফেলতে পারতেন। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে কিশোরীর মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুন করা হয়েছে। দ্বিতীয়, শনিবার রাত ৮টা থেকে এলাকার লোকজন নিখোঁজ কিশোরীর খোঁজ শুরু করে। সেই খবর অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিশোরীর মাথায় ভারী কিছু বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। এর জেরে জ্ঞান হারায় ওই নির্যাতিতা কিশোরী। এর পরে সুযোগ বুঝে তা বস্তাবন্দি করে পুকুরের জলে ফেলে দেওয়া হয়।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রভাস মন্ডল নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দিবাকর সর্দার নামে আরেক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে আনন্দ সর্দারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দিবাকর এবং প্রভাসকে বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আনন্দকেও আদালতে হাজির করানো হলে তাঁকেও পুলিশ হেফাজত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতেরা বারবার বয়ান বদল করছে। ধৃতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। ঘটনার দিনে মাদক সেবন আদৌ করেছিল কি না তা নিশ্চিত হতে রিপোর্টের অপেক্ষা তদন্তকারীরা করছে। পুলিশ সূত্রের এ-ও জানা গিয়েছে, ধৃতদের একসাথে বসিয়ে জেরা করবে সিটের সদস্যরা।


Share