Enforcement Directorate

বেআইনি আর্থিক লেনদেন রুখতে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করল ইডি, এসটিএফের সঙ্গেও পৃথক ভাবে আলোচনা

যদিও এই বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি লালবাজার বা ইডি দেয়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকের পরেই সমন্বয় বাড়ানোর জন‍্য উদ্যোগী হল বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪০

শহরে বেআইনি আর্থিক লেনদেনে রুখতে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। গত মঙ্গলবার ইডির কর্তারা এই বৈঠক করেছেন বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফের সঙ্গেও ইডির আধিকারিকেরা পৃথক ভাবে বৈঠক করেছেন।

লালবাজার সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার বিকেলে লালবাজারে কলকাতার দফতর থেকে ইডির কর্তারা কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে আসেন। কমিশনার অজয়কুমার নন্দ এবং যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। প্রায় এক ঘন্টা ধরে এই বৈঠক হয়েছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা শহরে অবৈধ লেনদেন রুখতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের কাছে এই সংক্রান্ত খবর ইডির চেয়েও বেশি থাকে। তবে এটা একেবারেই দুই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করার জন্য।

লালবাজার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তৃণমূল জমানায় অস্ত্র, মাদক, সাইবার অপরাধের সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও তার গভীরতায় পৌঁছোনো সম্ভব হয়নি। সেই সংক্রান্ত কোন থানায় কত মামলা দায়ের হয়েছে তা জানতে চাইছে ইডি। বিশেষ কয়েকটি এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সংঘটিত অপরাধের মাধ‍্যমে বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে এমন সন্দেহ থাকলে ইডি ইসিআইআর দায়ের করবে। তার জন‍্যই এই বৈঠক বলে জানা গিয়েছে।

যদিও তৃণমূল জমানায় এমন বৈঠক আগে কখনও হয়নি। কেন্দ্র ও রাজ‍্যের সংঘাতে সংঘটিত অপরাধ দমন করতে বেগ পেতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে। এমনকী, তদন্ত করতে গিয়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে ইডির আধিকারিকেরা। এ ছাড়াও, রাজ‍্যে রেশন দুর্নীতি, নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা পাচার, গরু পাচার-সহ একাধিক অভিযোগের তদন্ত এখনও করছে ইডি। এ বার শহরে পাচারের অর্থনীতি আটকাতে এবং কালো টাকা মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ইডি।

অন‍্য দিকে, রাজ‍্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছেন ইডির আধিকারিকেরা। এসটিএফ মূলত, সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করে থাকে। মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারের মতো ‘সিডিউল অফেন্স’-এর তদন্ত করে থাকে। এ ক্ষেত্রেও বিপুল টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখতে পারে ইডি। সেক্ষেত্রেও ইসিআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে পারে ইডি।

যদিও এই বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি লালবাজার বা ইডি দেয়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকের পরেই সমন্বয় বাড়ানোর জন‍্য উদ্যোগী হল বলে মনে করা হচ্ছে।


Share