Mahua Maitra

সাংসদ তহবিলের ১৮টি প্রকল্পে বাধা, মহুয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, সুরাহা না হলে যেতে পারবেন হাই কোর্টে

পাশাপাশি, কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে থাকার ক্ষেত্রেও মহুয়াকে স্বস্তি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেখানে থাকার জন্য তিন-চার দিন আগে নয়, এক দিন আগে প্রশাসনকে জানালেই চলবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহুয়া মৈত্র ও সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩২

সাংসদ তহবিলের কাজে বাধা, সুরাহার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। প্রশাসনের কাছে সমাধান না পেলে কলকাতা হাই কোর্টে যেতে পারবেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুক্রবার এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। পাশাপাশি, কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে থাকার ক্ষেত্রেও মহুয়াকে স্বস্তি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেখানে থাকার জন্য তিন-চার দিন আগে নয়, এক দিন আগে প্রশাসনকে জানালেই চলবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজের লোকসভা এলাকায় সাংসদ তহবিলের অর্থে উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারছেন না, এই অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক বাধার কারণে কৃষ্ণনগরে অন্তত ১৮টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প আটকে রয়েছে। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, জেলা প্রশাসনকে বারবার চিঠি দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এমনকি, এলাকার কয়েকটি স্কুলের ছাদ নির্মাণ ও মেরামতির কাজও আটকে রয়েছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাংসদ সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি রাজনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করেন, এই মামলায় আদালতের মূল উদ্বেগ সাংসদের ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির উপভোক্তাদের স্বার্থ। সাধারণ মানুষের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাই আদালতের উদ্দেশ্য। সেই কারণে মহুয়ার অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে জেলা প্রশাসনকে। প্রশাসনের কাছে সুরাহা না মিললে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন সাংসদ।

এদিকে, সাংসদ তহবিলের কাজের পাশাপাশি কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে থাকার বিষয়টি নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, সার্কিট হাউসে ওঠার পর রাতে তাঁকে ঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। এই বিষয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে। তাতে বলা হয়েছিল, মহুয়া সার্কিট হাউসে থাকতে চাইলে অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে প্রশাসনকে জানাতে হবে।

শুক্রবার সেই নিয়মে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের নির্দেশ, সার্কিট হাউসে থাকার জন্য এক দিন আগে জানালেই হবে। নিয়ম মেনে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সার্কিট হাউসে থাকার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন মহুয়া। যদিও রাজ্যের আইনজীবী ঘর খালি থাকার শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে আদালত আর কোনও মন্তব্য করেনি।


Share