TMC Leader

একদিনে জোড়া পদত্যাগ! অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ালেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মেয়রের চেয়ার ছাড়লেন গৌতম দেব

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।”

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও গৌতম দেব।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৬:৩০

তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। শুক্রবার তিনি জানান, দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। একই দিনে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” উল্লেখ্য, গত শনিবারই তাঁকে তৃণমূলের কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই দলীয় সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়।

তাঁর এই পদত্যাগে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও গৌতম দেবের মেয়র পদ ছাড়ার জল্পনা কয়েক দিন ধরেই চলছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগমের শীর্ষপদে থাকা নেতাদের পদত্যাগের ধারা শুরু হয়েছে। এর আগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী পদ ছেড়েছেন। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও। ফলে কার্যত ভেঙে গেল শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ড।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মেয়র পারিষদদের সঙ্গে বৈঠকে গৌতম দেব নিজের পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান। বৈঠকে উপস্থিত একাংশের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ আরও এক বছর বাকি থাকলেও গৌতমের পদত্যাগে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজে তাঁকে ব্যবহার করতে চাইছেন দলনেত্রী।

রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী গৌতম দেব ২০১১ সালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে জিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হন। ২০১৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে পর্যটন দফতরের দায়িত্ব পান। তবে ২০২১ সালে বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে এবং ২০২৬ সালে শিলিগুড়ি কেন্দ্রে বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কাছে পরাজিত হন তিনি। যদিও ২০২২ সালের শিলিগুড়ি পুরনিগম নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল।

অন্য দিকে, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। একাধিকবার বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রেশন দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং সেই মামলায় তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। তবুও দলের আস্থা বজায় ছিল তাঁর উপর। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের কাছে পরাজিত হন জ্যোতিপ্রিয়।


Share    

TMC