TMC Political Crisis

‘ভালোবাসা-সম্মান না থাকলে উপহারের মূল্য নেই’, মমতার উপহার ফিরিয়ে দিতে গিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার

বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান বৈদ্যনাথ। তাঁর দাবি, বিয়ের সময় পাওয়া সোনার গয়না ও অন্যান্য উপহার ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপহার ফিরিয়ে দিলেন বৈদ্যনাথ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০১:৩৩

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে প্রাক্তন সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং তাঁর পরিবারের। কাকলী ইতিমধ্যেই শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেই আবহে ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারও। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিয়ের উপহার ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান বৈদ্যনাথ। তাঁর দাবি, বিয়ের সময় পাওয়া সোনার গয়না ও অন্যান্য উপহার ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে বাসভবনের নিরাপত্তারক্ষী এবং দফতরের কর্মীরা সেই উপহার কিংবা তাঁর লেখা চিঠি কোনওটিই গ্রহণ করেননি।

বৈদ্যনাথের বক্তব্য, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং নিজেকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবেই দেখেন। তবুও বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যে তিনি অপমানিত ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, “যে আশীর্বাদের পেছনে আর কোনও ভালোবাসা, স্নেহ, আন্তরিকতা বা শুভেচ্ছা অবশিষ্ট থাকে না সেই উপহার বা আশীর্বাদ বয়ে বেড়ানোর কোনও অর্থ হয় না। সম্মান ও সৌজন্য যেখানে হারিয়ে যায়,সেখানে উপহারের মূল্যও শেষ হয়ে যায়।”

তিনি আরও জানান, ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে একটি চিঠিও লিখেছিলেন তিনি। সেই চিঠি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।

পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। একসময় তিনি সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের ভূয়সী প্রশংসা করে আলোচনায় আসেন। একটি ঘটনার প্রতিবাদ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বহু বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না, অথচ সীমিত প্রতিনিধিত্ব নিয়েও সিপিএম আন্দোলনে নেমেছে।

এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বদলেছে। কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একাধিক প্রাক্তন সাংসদ ও নেতার শাসকদল-বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। সেই আবহেই বৈদ্যনাথ অভিযোগ করেন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ঘিরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়া নিয়ে নানা মন্তব্যও করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতেই আইনি নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিয়ের উপহার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে বুধবার কালীঘাটে গিয়ে সেই উপহার জমা দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তা নিয়েই ফিরে আসতে হয় তাঁকে।


Share    

TMC