Suvendu Adhikari

‘পছন্দের মতো লোক মিলবে না,’ মমতার রক্ষীদের ফেরানোর আর্জি জানাতে গিয়ে বিধায়ককে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল বলেন, “কয়েকটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সিনিয়র মোস্ট বিধায়ক হিসাবে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেছেন।”

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৫:৫৯

পছন্দের মতো নিরাপত্তারক্ষী পাওয়া যাবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রদবদল নিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেন ছয় বিধায়ক। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে মমতার নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়নি বলেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শুরু হয় অধিবেশন। রাজ্যপালের ভাষণের পরেই কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, রহিম বক্সি, রুকবানুর রহমান মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে যান। সেখানে বসেই বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুরনো দল ফেরানো যায় কি না, সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও সূত্রের খবর, বিধায়কদের এই নিয়ে মমতা নিজে কোনও অনুরোধ করতে বলেননি। ছয় বিধায়ক নিজেই সে কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বুধবার মমতার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রদবদল হয়েছে। তিন জন নতুন অপরিচিত নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার রাতে এমনটাই দাবি করেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কমানোর যে কথা বলা হচ্ছে, তা একেবারেই ঠিক নয়। জেজ প্লাস যে নিরাপত্তা তিনি পেয়েছেন, তা-ই তিনি পাচ্ছেন। এক জন নিরাপত্তারক্ষীও কমানো হয়নি।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরাও স্থায়ী নয়। এমনকী, তাঁর পিএসও-রাও স্থায়ী নয়। এ ক্ষেত্রে পছন্দের ব্যক্তিদের কথা বলা হচ্ছে। তিনি সংযোজন করে বলেন, “সরকারি কোনও ব‍্যবস্থায় নিজের পছন্দের লোক পাওয়া যায় না।”

সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং হয়রানির ঘটনার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা গ্রেফতার হয়েছেন। অনেকের বাড়িতে তল্লাশি চলেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ কারণে এমনটা করা হয়েছে। তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেনকালীঘাট তৃণমূল’-এর সদস্যেরা। 

সেই সঙ্গে, পুনর্বাসন ছাড়া বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ থামানোর দাবিও ওই বিধায়কেরা তুলেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, এখনই উচ্ছেদ না করে হকারদের সময় দেওয়া হোক। প্রসঙ্গত, এই ইস্যুতে বুধবার পথে নেমেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়াও, কিছু জরুরি পরিষদীয় বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে শোভনদেব বলেন, “বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরু হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমাদের কয়েকটা প্রশ্ন ছিল। আমাদের বসার জায়গা কোনটা, আমরা ঘর পাব কি না, বলার সুযোগ পাব কি না— এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। আমরা তো জনপ্রতিনিধি। আমাদের নিজের এলাকার মানুষদেরও বলতে হবে। জবাবদিহি করতে হবে।” 

বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল বলেন, “কয়েকটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সিনিয়র মোস্ট বিধায়ক হিসাবে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেছেন।”

উল্লেখ্য, মমতার বাড়িতে বিগত ২০ বছর ধরে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  পিএসও হিসেবে কাজ করতেন, তাঁদের বুধবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, পিএসও-র দায়িত্ব দিয়ে চার-পাঁচ জনকে পাঠানো হলেও তাঁদেরকে নিতে মমতা চাননি। ফিরিয় দেন তিনি। ফলে বুধবার রাতে থেকে পুলিশের কিয়স্ক পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। রাতে সেখানে কোনও পুলিশ থাকছে না বলেই জানা গিয়েছে।


Share