Maoist

কলকাতায় বসে মাওবাদীদের আদর্শবাদের প্রচার! কলকাতা-সহ রাজ‍্যের তিন জায়গায় চলল এনআইএর তল্লাশি অভিযান

অভিযোগ, পূর্ব ভারতের মাওবাদী জঙ্গিদের সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবন দেওয়ার জন‍্য কাজ করছিল। সেই মামলার তদন্তেই এনআইএ এই তিন জনের বাড়িতে যায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০১:০৩

কলকাতায় বসে মাওবাদী জঙ্গিদের আদর্শবাদের প্রচার করা হচ্ছে। ঝাড়খন্ডে রুজু হওয়া একটি মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার কলকাতা, নদিয়ার একাধিক জায়গায় এনআইএ তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নকশাল নেত্রী, সেখানকার এক নকশাল নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

এনআইএ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে নাগাদ যাদবপুরের এক ঝিলম রায় নামে ছাত্রীর বাড়িতে তাঁরা তল্লাশি অভিযানে যান। ঝিলম দক্ষিণ কলকাতার একটি আবাসনে একা থাকেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ স্কলার। ঝিলম ‘ফেমিনিন ইন রেজিস্ট্যান্স’ নামে একটি নকশালপন্থী সংগঠনের হোতা। একই সময় এনআইএয়ের আরেকটি দল দক্ষিণ কলকাতার তথাগত রায়চৌধুরী নামে এক যুবকের বাড়িতে অভিযান চালায়। তথাগত ‘রেভোলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্ট’ (আরএসএফ)-নামে একটি সংগঠনের নেতা। এটিও নকশালপন্থী সংগঠন বলেই পরিচিত। অন‍্য দিকে, নদিয়ার জাগুলিতে এনআইএ সুকুমার কয়াল নামে এক ব‍্যক্তির কাছে পৌঁছোয়। সুকুমার একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। পাশাপাশি ‘সংগ্রামী কৃষক মঞ্চ’ (এসকেএম)-এর সংগঠক। তাঁকে স্কুলের ঘরে আটকে রেখেই তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে রাঁচিতে একটি দেশ বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। অভিযোগ, পূর্ব ভারতের মাওবাদী জঙ্গিদের সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবন দেওয়ার জন‍্য কাজ করছিল। সেই মামলার তদন্তেই এনআইএ এই তিন জনের বাড়িতে যায়।

এনআইএ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে বাংলা ভাষায় লেখা সরকার বিরোধী বিশেষ প্রচারপত্র, এনআরসি এবং এসআইআর বিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং এই মামলার চার্জশিটের কপি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই মামলায় তিন সন্দেহভাজনকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, এই তিন জনই এসআইআর বিরোধী আন্দোলন করেছিল। ঝিলম পার্কসার্কাসে এসআইআর-এর বিরোধিতা করে তথাকথিত আন্দোলন করেছিলেন। সুকুমার  ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’-এর ব্যানারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এই সংগঠন। তথাগত রায়চৌধুরীও এসআইআর বিরোধী তথাকথিত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।


Share