Blast

আহমেদাবাদে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! নিহত অন্তত আট, আহত ১৫, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও কয়েকজন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আহমেদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১০:১৭

গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে। মৃত অন্তত আট জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শনিবার দুপুরে রামোল-গাত্রাড রোড সংলগ্ন মহম্মদপুরা এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার বড় অংশ ধসে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও কয়েকজন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য দু'লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, যে কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেটি বেআইনিভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রশাসনের দাবি, ওই ইউনিটের লাইসেন্স অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছিল। তবু অভিযোগ, গোপনে সেখানে বাজি তৈরির কাজ চলছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রশাসনের নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কীভাবে কারখানাটি চালু ছিল এবং নিরাপত্তা বিধি অমান্য করে উৎপাদন চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

দমকলের কর্মীরা টানা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে কুলিং অপারেশন চালানো হয়। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকার্যও অব্যাহত থাকে।

এই ঘটনার পর গুজরাটে বেআইনি বাজি ও বিস্ফোরক কারখানাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে এমন একাধিক দুর্ঘটনা ঘটার পরেও কীভাবে এই ধরনের অবৈধ ইউনিটগুলি চালু ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বেআইনি বিস্ফোরক ও বাজি কারখানার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানও চালানো হবে।


Share