Narendra Modi

নিট প্রশ্নফাঁসে কড়া বার্তা কেন্দ্রের, ১০ বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ কোটি টাকা জরিমানার পথে নতুন বিল, মোদীর ঘোষণার পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার পর শুক্রবার এই খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পেশ করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০:০৬

প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন খসড়া বিলে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার পর শুক্রবার এই খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পেশ করা হতে পারে।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর হবে। পাশাপাশি, এই ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। সূত্রের দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এ দিকে, পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির ৪৭ জন কর্মীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁদের পদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সূত্রের আরও দাবি, তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, নিট-কাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ খসড়া বিল প্রস্তুত করছে। সেই বিলের আওতায় ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পেশ ও পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে, যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার রাতে দু'মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োবার্তায় মোদী বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।’’ তিনি জানান, এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আড়াই মাসে সরকারের তরফে অনেক পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই দ্বিতীয় বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশ্বাসের পর অনশন প্রত্যাহার করলেন সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। তিনি গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্য দিকে, একই ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের তিন দফা দাবির অন্যতম হল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পাশাপাশি, নিট কেলেঙ্কারির জেরে গত মে মাস থেকে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবিও তুলেছে সিজেপি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে একটি ভিডিয়ো বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পরপরই সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। তিনি লেখেন, “মাননীয় মোদীজি, আমাদের ছাত্রেরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করছেন। আপনি মধ্যরাতের করুণ ভিডিয়ো দিয়ে তাঁদের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করবেন না।” পোস্টে রাহুল প্রধানমন্ত্রীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের তিনটি মূল দাবি স্মরণ করিয়ে দেন। প্রথমত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, দ্বিতীয়ত, পড়ুয়াদের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং তৃতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। প্রধানমন্ত্রীকে একই ইস্যুতে আক্রমণ শানান কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গেও। তাঁর কটাক্ষ, একতরফাভাবে ‘মনের কথা’ বলার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী যেন লোকসভার অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

নিট-কাণ্ড নিয়ে শুক্রবারও সরগরম ছিল সংসদ। দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের দুই কক্ষেই। পরে সারা দিনের জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। সংসদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদেরা। লোকসভার ভিতরেও ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে স্লোগান দেন তাঁরা। এই আবহে শুক্রবার প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে দোষীদের কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করে যে বিল আনা হল, তাতে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

উল্লেখ্য, দু’বছর আগে নিট প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এখনও পর্যন্ত পটনার সিবিআই আদালতে মোট পাঁচটি চার্জশিট জমা পড়েছে, যেখানে ৪৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্ত শুরুর দু’বছর পরেও এক জন অভিযুক্তেরও দোষ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখিয়ার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র চুরি বা বিক্রির কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। ফলে তাঁকে কার্যত ‘ক্লিন চিট’ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের একাংশের প্রশ্ন, নতুন আইন কার্যকর হলেও আদৌ কি দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে?


Share