Delhi Blast

আসরে নামল ইডি, নজরে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন, দিল্লি ও ফরিদাবাদের ২৫টি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান

তদন্তকারী এক সূত্রের খবর, জঙ্গি কার্যকলাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক তহবিল কাজে লেগেছিল কি না, কিংবা জঙ্গিদের আর্থিক মদত করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রসঙ্গত, চিকিৎসক শাহিন শহিদের বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর। সেই অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি।

আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইডির তল্লাশি অভিযান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১১:২২

এনআইয়ের পরে এ বার আসরে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় আল ফালাহ্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দিল ইডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত আইনে (পিএমএলএ) মামলা রুজু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত দিল্লি এবং ফরিদাবাদের অন্তত ২৫টি ঠিকানায় তল্লাশি ইডি চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। 

প্রসঙ্গত, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছিল দিল্লি পুলিশ। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকিকেও দু’টি পৃথক এফআইআরের জন্য তলব করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে  জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকির বয়ান নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। শুধু তা-ই নয়, তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু কাজকর্মেরও হদিস মিলেছে, যেগুলি সন্দেহের আওতায় পড়ে। ঘটনাচক্রে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিস্ফোরণ কাণ্ডে ‘ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক’ উমর-উন-নবি, চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, চিকিৎসক শাহিন শহিদ এবং চিকিৎসক আদিল-সহ আরও কয়েক জন। আর তার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম নিয়ে একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছিল তদন্তকারীদের মনে। তার পর থেকেই আল ফালাহ্‌তে তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এ বার বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করল ইডি।

তদন্তকারী এক সূত্রের খবর, জঙ্গি কার্যকলাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক তহবিল কাজে লেগেছিল কি না, কিংবা জঙ্গিদের আর্থিক মদত করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রসঙ্গত, চিকিৎসক শাহিন শহিদের বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর। সেই অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি। সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কে বা কারা দিয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের প্রতিটি সূত্র ধরে এগোনোর সময় আল ফালাহে্‌র আর্থিক লেনদেনকেও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হয়। আর তার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। 

কেন্দ্রের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই আল ফালাহে্‌র বিরুদ্ধে তদন্তে নামে ইডি। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন্সিক অডিটেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের আর্থিক দুর্নীতিদমন শাখাও আলাদা ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণ নিয়ে তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিস্ফোরণ কাণ্ডে আল ফালাহে্‌র নাম উঠে আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ইউজিসি এবং ন্যাক আলাদা ভাবে অভিযোগ দায়ের করে। অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিস (এআইইউ) আল ফালাহে্‌র সদস্যপদ বাতিল করেছে।


Share