Delhi Blast

বিস্ফোরণের আগে লালকেল্লার সামনে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল ‘সন্দেহজনক’ গাড়ি, বেরিয়ে যাওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই জোরালো বিস্ফোরণ

যে গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয় সেটির নম্বরপ্লেট হরিয়ানার। গাড়ির নম্বর HR 26 CE 7674 ।মালিকের নাম মহম্মদ সলমন। সলমন গাড়িটি পুলওয়ামার তারিক নামে এক বাসিন্দাকে বিক্রি করেছিল। কিন্তু কাগজে নাম পরিবর্তন হয়নি। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে সন্দেহজনক গাড়িটি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০২

দিল্লিতে বিস্ফোরণের পরে লালকেল্লার আশপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। কী কারণে বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। আত্মঘাতী হামলা ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া গাড়িটি লালকেল্লার কাছে একটি মসজিদের কাছে প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। সেখান থেকে রওনা দেওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই জোরালো বিস্ফোরণ হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করার সময় প্রাথমিক ভাবে এমনটাই জানা গিয়েছে বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর।

ইতিমধ্যেই একটি সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া ওই হুন্ডাই আই-২০ গাড়িটি সম্ভবত একটি পার্কিংয়ে প্রবেশ করছে। গাড়িটির মধ্যে এক জনকেই দেখা গিয়েছে। ওই ব‍্যক্তি চালকের আসনে বসে ছিল। পরনে ছিল নীল এবং কালো রঙের একটি পোশাক। গাড়ির চালকের আসনের পাশের জানালা দিয়ে মাথা বার করতেও দেখা যাচ্ছে। মুখে কালো মাস্ক পরা অবস্থায় ছিল ওই ব্যক্তি। তবে গাড়িতে ওই সময় আরও কেউ ছিল কি না, তা সিসি ক্যামেরার ওই ফুটেজে স্পষ্ট নয়।

পুলিশ সূত্রকে উদ্ধৃত করে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, সাদা রঙের ওই ‘হুন্ডাই আই-২০’ গাড়িটি দুপুর ৩টে ১৯ মিনিটে লালকেল্লার সুনহেরি মসজিদ কাছে একটি পার্কিংয়ে প্রবেশ করেছিল। সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত গাড়িটি সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। তার পরে ওই পার্কিং থেকে বেরোয় গাড়িটি। পার্কিং থেকে বার হওয়ার ৪ মিনিটের মাথায় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লার কাছে গাড়িটিতে জোরালো বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণস্থলের ৮০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে গৌরিশঙ্কর এবং জৈন মন্দির।

দিল্লি পুলিশের অপর একটি সূত্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অনুমান করা হচ্ছে গাড়িতে এক জনই যাত্রী ছিল। ওই সূত্রের কথায়, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের সময়ে গাড়িটিকে পার্কিংয়ে প্রবেশ করতে এবং বার হতে দেখা গিয়েছে। ফুটেজ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, ওই সময়ে গাড়িতে সন্দেহভাজন একাই ছিল। এখন তদন্তকারীরা দরিয়াগঞ্জের দিকের রাস্তাটি ‘ট্র্যাক’ করছেন। গাড়িটির সম্পূর্ণ গতিবিধি জানার জন্য আশপাশের এলাকার টোল প্লাজা-সহ শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”

যে গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয় সেটির নম্বরপ্লেট হরিয়ানার। গাড়ির নম্বর HR 26 CE 7674 ।মালিকের নাম মহম্মদ সলমন। সলমন গাড়িটি পুলওয়ামার তারিক নামে এক বাসিন্দাকে বিক্রি করেছিল। কিন্তু কাগজে নাম পরিবর্তন হয়নি। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউএপিএ-র ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


Share