Pakistan Beggar Exodus

ভিন্ দেশে গিয়ে বেছে নিয়েছিল ভিক্ষাবৃত্তি! ৫৬ হাজার পাকিস্তানি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়ে দিল সৌদি আরব, নো-ফ্লাই তালিকায় আরও কয়েক হাজার

ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে সৌদি আরব থেকে ৫৬ হাজার পাকিস্তানি ফেরত পাঠিয়েছে। সংগঠিত চক্র ঠেকাতে চলতি বছরে ৬৬ হাজারের বেশি যাত্রীকে বিমান থেকে নামানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ভিসা ও বিদেশযাত্রার নিয়ম কড়া হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সৌদি আরব
সৌদি আরব
  • শেষ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:২৭

বিদেশে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি! এমন অভিযোগে ৫৬ হাজার পাকিস্তানি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। বিমান থেকে নামানো হয়েছে আরও ৬৬ হাজার যাত্রীকে। দেশের অভ্যন্তরীণ ‘নো-ফ্লাই’ তালিকা এবং বিদেশি সরকারগুলির কড়া সতর্কতা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে বিদেশ যাত্রা অব্যাহত রেখেছে হাজার হাজার পাকিস্তানি। ভিক্ষুকদের ফেরানোর কথা স্বীকার করেছে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।

জানা গিয়েছে, সংগঠিত ভিক্ষুক চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে চলতি বছরে ৬৬ হাজার ১৫৪ জন যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই দেশে সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তি ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো যায় তার উদ্দেশ্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

এফআইএ সূত্রের খবর, ইসলামাবাদ কয়েক মাস আগে হাজার হাজার নাগরিককে ‘এক্সিট কন্ট্রোল’ বা ‘নো-ফ্লাই’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের এক সংসদীয় প্যানেলে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এর মধ্যেই গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা দেওয়া কার্যত বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে যাওয়া বহু ব্যক্তি ভ্রমণের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সেখানে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির পেশা বেছে নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরই সৌদি আরব পাকিস্তানকে সতর্ক করে। তারা পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, মক্কা ও মদিনায় উমরাহ ভিসার অপব্যবহার করে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের ওপর কড়া প্রভাব পড়তে পারে। অতীতেও সৌদি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

এফআইএ প্রধান মুখতার জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসন ও ভিক্ষাবৃত্তির চক্র আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন শহরে পর্যটক ও তীর্থযাত্রী ভিসার অপব্যবহার করে পাকিস্তানি ভিক্ষুকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা স্বাগতিক দেশগুলোকেও উদ্বিগ্ন করছে। এই পরিস্থিতির জেরে হজযাত্রী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশ যাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। আর তার জেরেই বাড়ছে পাকিস্তানি ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং কঠোর ঝাড়াই-বাছাই।

গত ২০২৪ সালে সমাজমাধ‍্যমে এক পাকিস্তানি নাগরিক লেখেন, "আমি সবেমাত্র উমরাহ করে ফিরেছি। আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলছি, আমি পাকিস্তানি হয়ে লজ্জিত। তারা বিন দাউদ স্টোরের ভেতরে ভিক্ষা করছে। তারা উমরাহের সময় ভিক্ষা করছে। এমনকি তারা রাস্তায় বসেও ভিক্ষা করছে।"

পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ রাফিয়া জাকারিয়া লেখেন, এই ভিক্ষুকদের অনেকেই পেশাদার এবং এই সংক্রান্ত কাজ করতে তাঁরা দক্ষ। তাঁর মতে, ওই পাকিস্তানি ভিক্ষুকেরা হজ যাত্রীদের অপরাধবোধকে কাজে লাগিয়ে টাকা আদায় করে।

সৌদি আরব ছাড়াও কুয়েত, বাহরিন, আজারবাইজান-সহ একাধিক পশ্চিম এশিয়ার দেশে পাকিস্তানি ভিক্ষুকদের উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। প্রবাসী পাকিস্তানি বিষয়ক সচিব জিশান খানজাদা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় আটক ভিক্ষুকদের প্রায় ৯০ শতাংশই পাকিস্তানি নাগরিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিক্ষুকদের এই ‘রপ্তানি’ শুধু বিদেশে পাকিস্তানের ভাবমূর্তির পাশাপাশি সেই সব দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাও বিপন্ন হতে পারে। এ ছাড়াও, পাকিস্তানি নাগরিকদের বিদেশে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত করে তুলছে।


Share