Venezuela Crisis

আমেরিকার অভিযানে ভেনিজুয়েলার সেনাকর্মী-সহ ৪০ জনের মৃত্যু, প্রায় ছ’জন আমেরিকার সেনা জখম

সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডান কেন জানান, নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় হেলিকপ্টারগুলিকে লক্ষ‍্য করে গুলি চালানো হয়। তাঁর কথায়, একটি হেলিকপ্টার আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তা উড়তে সক্ষম হয়েছিল। সবকটি আমেরিকার বিমান নিরাপদে ফিরে এসেছে।

ভেঙে গিয়েছে বাড়ি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৫

শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সেনাকর্মী এবং নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। প্রকাশ না করে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ভেনেজুয়েলার এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্তা এমনটাই জানিয়েছেন।

শনিবার ফক্স নিউজে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানে কোনও আমেরিকার সেনা নিহত হননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যে কিছু সেনা আহত হয়ে থাকতে পারেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দু’জন আমেরিকার কর্তা জানায়, স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পুরো অভিযানে প্রায় ছ’জন আমেরিকার সেনা জখম হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডান কেন জানান, নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় আমেরিকার হেলিকপ্টারগুলিকে লক্ষ‍্য করে গুলি চালানো হয়। তাঁর কথায়, একটি হেলিকপ্টার আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তা উড়তে সক্ষম হয়েছিল। সবকটি আমেরিকার বিমান নিরাপদে ফিরে এসেছে।

আমেরিকার অভিযানের পরপরই কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমের উপকূলবর্তী কাটিয়া লা মার-এ এক ভেনেজুয়েলান নাগরিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করে, সেখানে যখন আমেরিকার সেনারা অভিযান চালাচ্ছিল, সেখানে একটি তিনতলা  অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত। বাইরের দেয়াল ভেঙে পড়ে। ৮০ বছর বয়সি রোসা গঞ্জালেস নিহত হন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। আরেকজন গুরুতর ভাবে জখম হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে রোসা গঞ্জালেসের নামে ভাইপো উইলমান গঞ্জালেস জানান, রাত প্রায় ২টার দিকে হামলার শব্দ শুনে তিনি নীচু হয়ে পড়েন। তিনি অল্পের জন্য চোখ হারাতে বসেছিলেন। তাঁর মুখের পাশে তিনটি সেলাই পড়েছে। শনিবারের ঘটনাস্থলে সরকারি তদন্তকারীরা উপস্থিত হন। তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঘটনাস্থল থেকে কিছু প্রজেক্টাইল সংগ্রহ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর চারজন ব্যক্তি রোসা গঞ্জালেসকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা তাঁকে একটি মোটরবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার সঙ্গে আরেক জন মহিলাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে বাসিন্দাদের জানানো হয় যে তিনি বেঁচে আছেন। তবে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অভিযান সফল হওয়ার পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ভেনেজুয়েলা এবং তার নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সাফল্যের সঙ্গে বড় মাত্রার অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দেশ ছেড়েছেন।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ-ও বলেন, “ভেনেজুয়েলায় কী হবে, তা এ বার নির্ধারণ করবে আমেরিকাই।”

দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার চাপানউতর চলছিল। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলা সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সরকারকে ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ বলেছিলেন তিনি।


Share