Attack on Zafar Express

ফের জাফর এক্সপ্রেসে হামলা, নেপথ্যে বালোচ বিদ্রোহীরা, সন্দেহ পাকিস্থানের

নাসিরাবাদের এসপি গুলাম সারওয়ার জানান, জাফর এক্সপ্রেসে হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিরাপত্তাবাহিনী। যদিও হামলাকারীদের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

জাফর এক্সপ্রেস
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালোচিস্তান
বালোচিস্তান
  • শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ০২:৪৪

আবার পাকিস্তানের বালোচিস্তানের নিশানায় জাফর এক্সপ্রেস। রবিবার নাসিরাবাদের কাছে যাত্রিবাহী ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পর পর রকেট দেগে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরক দিয়েও উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা রেললাইন। 

পাকিস্তান পুলিশ সূত্রে খবর, কোয়েটা প্রদেশ থেকে পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল ট্রেনটি। নাসিরাবাদের শহিদ আব্দুল আজ়িজ় বুল্লো এলাকা দিয়ে ট্রেনটি যাওয়ার পরই রেললাইনে বিস্ফোরণ হয়। পুলিশ মনে করছে, ঠিক সময়ে বিস্ফোরণ না হওয়ায় ট্রেনটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু তার পরেও ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা পর পর চারটি রকেট ছোড়ে। সেই নিশানাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে একই দিনে দু’বার হামলা থেকে রক্ষা পায় জাফর এক্সপ্রেস।

নাসিরাবাদের এসএসপি গুলাম সারওয়ার জানিয়েছেন, জাফর এক্সপ্রেসে হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় নিরাপত্তাবাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও হামলাকারীদের কোনও হদিস পায়নি তারা। সারওয়ারের কথায়, ‘‘হামলাকারীরা জাফর এক্সপ্রেসকে নিশানা করেছিল। কিন্তু সেই নিশানা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে যাত্রিবাহী ট্রেনটি। এই হামলায় কেউ হতাহত হননি।’’

রেল আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, রেললাইনের বেশ খানিকটা অংশ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোয়েটার সঙ্গে দেশের অন্য প্রান্তের রেল যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও নিরাপদেই জেকোবাবাদে পৌঁছোয় ট্রেনটি। সেখান থেকে পেশোয়ারের উদ্দেশেও রওনা দেয় সেটি। রেলকর্তারা জানিয়েছেন, চার দিন এই ট্রেন বন্ধ থাকার পর রবিবার আবার চলাচল শুরু করে। আর তার পরই হামলার শিকার হয় ট্রেনটি। পাকিস্তান রেল সূত্রে খবর, নিরাপত্তার কারণেই ট্রেনটিকে চার দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তার পর রবিবার আবার যাত্রা শুরু করে। পাক পুলিশ সূত্রে খবর,তবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও সংগঠনই।

গত অক্টোবরেই জাফর এক্সপ্রেসে হামলা চালান বালোচ বিদ্রোহীরা। রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ট্রেনের বেশ কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে জাফর এক্সপ্রেস অপহরণ করে যাত্রীদের পণবন্দি করেছিলেন সশস্ত্র বালোচ বিদ্রোহীরা। বন্দিদের মুক্ত করতে সেনা নামাতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের সেনা জওয়ান-সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেনার পাল্টা অভিযানে মৃত্যু হয় ৩৩ জন বালোচ বিদ্রোহীর। শেষে ৩৫৪ জন বন্দি-সহ ট্রেনটিকে উদ্ধার করে পাক সেনা। তার পরেও বিভিন্ন সময়ে হামলার মুখে পড়েছে জাফর এক্সপ্রেস। গত জুন মাসে সিন্ধ প্রদেশের জাকোবাবাদের কাছে বিস্ফোরণে ট্রেনের চারটি কামরা লাইনচ্যুত হয়। তার পরে অগস্টের ৪ এবং ১০ তারিখেও হামলার মুখে পড়ে জাফর এক্সপ্রেস।


Share