Election Commission

অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ, ডিভিশন বেঞ্চে গেল নির্বাচন কমিশন

গত শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালত জানতে চায়, কেন অধ্যাপকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কমিশন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয়।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:১৭

ভোটে কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই নিয়োগের পক্ষে নির্বাচন কমিশন কোনও যথাযথ কারণ দেখাতে পারেনি। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোমবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় কমিশন। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। এই বিষয়ে শুনানি মঙ্গলবার হতে পারে।

প্রসঙ্গত, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী এবং সহযোগী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাংশ অধ্যাপক আদালতের দ্বারস্থ হন। গত শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালত জানতে চায়, কেন অধ্যাপকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কমিশন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি বিচারপতি নির্দেশ দেন, উপযুক্ত কারণ ছাড়া অধ্যাপকদের এমন নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ করা যাবে না, যা তাঁদের পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর ফলে বাকি অধ্যাপকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল এবং অনেকেই ইতিমধ্যে সেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা নিচ্ছেন। আদালত স্পষ্ট করেছে, যাঁদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, তাঁরা ভোটের সময় দায়িত্ব পালন করবেন। তবে যাঁরা এখনও প্রশিক্ষণ নেননি, তাঁরা এই নির্দেশ থেকে অব্যাহতি পাবেন।

সাধারণত নির্বাচনকালে বুথ পরিচালনার জন্য শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। কমিশনের যুক্তি ছিল, রাজ্যে ৯০ হাজারেরও বেশি বুথ থাকায় বিপুল সংখ্যক আধিকারিকের প্রয়োজন। আগের বিধানসভা নির্বাচনেও অধ্যাপকেরা এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও তারা আদালতে জানায়। তবে আদালতের মতে, এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরতে না-পারাই কমিশনের সিদ্ধান্ত বাতিলের মূল কারণ। সেই কারণেই এবার সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছে নির্বাচন কমিশন।


Share