IPAC

বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির পরে পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ করল আইপ‍্যাক! আগামী ২০ দিন কর্মীদের ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিল তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা

পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে সংস্থার বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তলব করা হয়েছে প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাইকে। সব মিলিয়ে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থাকে নানারকম আইনি জটিলতায় ফেলার অভিযোগ উঠছে ইডির বিরুদ্ধে।

সাময়িক ভাবে সমস্ত কাজ বন্ধ করল আইপ‍্যাক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১৭

কয়লাচুরি মামলায় তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলকে ইডি গ্রেফতার করেছে। তার পরেই রাজ‍্যে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক। সংবাদপত্র ‘ডেকান হেরাল্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০ দিন সংস্থার কর্মীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাতে আইনি জটিলতার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ‍্যাক তাঁদের কর্মীদের ২০ দিনের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ইমেল মারফত কর্মীদের এ কথা জানানো হয়েছে। আগামী ১১ মে-র পর আবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে ইমেলে জানা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা জানানো হবে। কর্মীদের কাছে আইপ্যাক কর্তৃপক্ষের আবেদন, “আপনারা ধৈর্য ধরুন। আমরা গোটা আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।” কোনও রকম দরকার হলে কর্মীরা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেই জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে।

প্রথম দফার ভোটের চারদিন আগে শাসকদলের ভোটকুশলী সংস্থার কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় তৃণমূল বিপাকে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সংস্থার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দেওয়া হলেও তৃণমূল এটাকে মিথ্য খবর বলে দাবি করেছে। আইপ‍্যাক এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই কাজ করছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এটা বিভ্রান্ত ছাড়ানোর জন্য এমন খবর রটানো হয়েছে। তৃণমূলের আরও দাবি, আকস্মিক আইপ‍্যকের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মিথ‍্যা খবর রটানোর জবাব মানুষ নির্বাচনে দেবে।

উল্লেখ্য, কয়লাচুরি কান্ডে কোটি কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে সাদা করার অভিযোগে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থার ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তাঁর এবং সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কয়লাচুরির কোটি কোটি টাকা হাওলার মাধ্যমে সাদা করা হয়েছে। সেই টাকা রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে কাজে লাগানো হয়েছে। পৌঁছে গিয়েছে প্রভাবশালীদের কাছেও। এমনকী, টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও ইউডির সূত্র দাবি করেছে। এই মামলাতে প্রতীক জৈনের স্ত্রী বারবি জৈন এবং ভাই পুলকিত জৈনকে ইডি দিল্লিতে তলব করেছিল। কিন্তু তাঁরা জাননি।

কয়লাচুরি মামলায় ইতিমধ্যেই সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশিচালিয়েছে ইডি। সেই তল্লাশি অভিযানের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফাইল চুরি এবং তদন্তকারীদের আধিকারিকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছে ইডি। সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।


Share