CEO in Malda

মোথাবাড়ি বিক্ষোভের পর কড়া নজরদারি, মালদহে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মনোজ আগরওয়াল

জেলা প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছে প্রথমে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতৃত্বের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন।

মালদহে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মনোজ আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:২৭

এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে সম্প্রতি মালদহের মোথাবাড়িতে জুডিশিয়াল অফিসারদের আটকে রেখে বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সেই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটে জেলার নির্বাচনী পরিবেশে বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে কমিশন। সেই সূত্রেই সোমবার মালদহ সফরে আসেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

জেলা প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছে প্রথমে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতৃত্বের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে জেলার কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করে সামগ্রিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন।

মনোজ আগরওয়াল জানান, প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ভোট পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালানো হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিমাংশু কুমার লাল, মালদহের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, পোলিং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সিএপিএফের অনুমতি ছাড়া বুথে কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। পাশাপাশি, ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে এবং কোথাও অশান্তি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাবে রাজ্য পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, বুথ লেভেল অফিসার (BLO) থেকে শুরু করে কার কী দায়িত্ব, এবং কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে—সবই রাজনৈতিক দলগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও গুরুতর গোলযোগ হলে পুনর্নির্বাচন (রি-পোল) করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

নির্বাচনের আগে ওসিদের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। জানান, কয়েকজন ওসিকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, "আইনের উপর কেউ নেই। এবার শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছ ভোট হবে, কেউ ভয় করবেন না।"

পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁরা নিজেরা উপস্থিত থাকলে তবেই ভোট দিতে পারবেন, অন্য কেউ তাঁদের হয়ে ভোট দিতে পারবেন না। ২১ তারিখ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, তাঁরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ইতিমধ্যেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং সমস্ত সরকারি কর্মচারীর ভোট নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে, সেখান থেকেই সমস্ত বুথের উপর নজরদারি চালানো হবে। প্রতিটি বিধানসভায় তিনটি করে স্ক্রিনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চলবে।

নজরদারির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর রিপোর্ট দিতে হবে এবং তা লিখিত আকারে জমা করতে হবে। বুথের ভেতরে সর্বক্ষণ সিএপিএফ মোতায়েন থাকবে এবং কোনও সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানানো হবে।

শেষে তিনি আবারও স্পষ্ট করে দেন, সিভিক ভলান্টিয়ারদের কোনওভাবেই নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা হবে না। তারা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকবেন। কমিশনের লক্ষ্য, কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা।


Share