Assembly Election

‘ওয়ান ইলেকশন ফোর্স’ মডেল! প্রথম দফায় নির্বাচনের আগে প্রযুক্তির ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, সেন্ট্রাল ইন্ডিস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স, সশস্ত্র সীমা বল এবং ইন্দো টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ-এর ডিরেক্টর জেনারেলরা।

ভোটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৩

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। আগেই সে বার্তা দিয়েছেন দেশের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই লক্ষ্যেই প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্যে নজিরবিহীন সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের সময় আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, সেন্ট্রাল ইন্ডিস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স, সশস্ত্র সীমা বল এবং ইন্দো টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ-এর ডিরেক্টর জেনারেলরা। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সেখানে।

আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই ছিল এই বৈঠকের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

এই অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর সল্টলেকে সিআরপিএফ ক্যাম্পে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সূচনা করেন সালভ মাথুর। এতে সিআইএসএফ, বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি, এসএসবি এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পুলিশ উপদেষ্টাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন, অ্যান্টি-সাবোটাজ চেক এবং ‘ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি গ্রিড’-এর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়, যাতে সম্ভাব্য যেকোনও বিঘ্ন দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।

CISF প্রধান প্রবীর রঞ্জন বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে আমাদের দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভোটের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ও মাথায় রাখছি। মাঠে থাকা প্রতিটি কর্মী গণতন্ত্রের রক্ষক। আমাদের একক বাহিনী হিসেবে নয়, বরং ‘ওয়ান ইলেকশন ফোর্স’ হিসেবে কাজ করতে হবে সমন্বিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ।”

প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে সিএফপিএফ নেতৃত্ব ‘লিডারশিপ বাই এক্সাম্পল’-এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বজায় থাকে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে ‘ইলেকশন ডিউটি হ্যান্ডবুক’-এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বৈঠকের শেষে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। এর মাধ্যমে ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


Share