Assembly Election

পানিহাটিতে প্রেস্টিজ ফাইট! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম নরেন্দ্র মোদী, নারী নিরাপত্তাই কি ভোটের মূল ইস্যু?

জানা গিয়েছে, তাঁর সমর্থনে ২৪ এপ্রিল পানিহাটিতে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও রত্না এই লড়াইয়ের মুখ্য প্রতীক, আসলে মোদীর লক্ষ্য বৃহত্তর মহিলা ভোটব্যাঙ্কের উদ্দেশ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পানিহাটির প্রার্থী রত্না দেবনাথ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫২

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে এ বার সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে ভবানীপুরকে, আর প্রেস্টিজ ফাইটের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পানিহাটি। সাধারণত পানিহাটির বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষ বা নান্টু ঘোষ কালীঘাটের বিশেষ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নন। তবে আরজি কর আন্দোলনের পর এই কেন্দ্রটি এক গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে এখন মূল প্রশ্ন, তৃণমূলের শাসনকালে বাংলার মহিলারা কতটা নিরাপদ ছিলেন?

আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা ও খুন হওয়া চিকিৎসক পড়ুয়ার বাড়ি পানিহাটিতেই। তাঁর মা রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তিনি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, তাঁর সমর্থনে ২৪ এপ্রিল পানিহাটিতে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও রত্না এই লড়াইয়ের মুখ্য প্রতীক, আসলে মোদীর লক্ষ্য বৃহত্তর মহিলা ভোটব্যাঙ্কের উদ্দেশ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

অন্যদিকে, সাংগঠনিকভাবে পানিহাটিতে তৃণমূল যথেষ্ট শক্তিশালী এবং স্থানীয় পুরসভাতেও তাদের প্রভাব সুদৃঢ়। রবিবার রোড শো করে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে শাসকদল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের বক্তব্য, নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করে বিজেপি নেতিবাচক রাজনীতি করছে।

রত্না দেবনাথের প্রার্থীপদ ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু করে। বিজেপির অভিযোগ, এর জন্য কিছু সমাজ মাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সারকে ব্যবহার করা হয়েছে। পাল্টা প্রচারেও নেমেছে বিজেপি।

রত্না দেবনাথ নিজে জানিয়েছেন, ক্ষমতার লোভে নয়, বরং মেয়ের উপর হওয়া নির্যাতনের বিচার এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের ব্যর্থতার প্রতিবাদেই তিনি এই লড়াইয়ে নেমেছেন। বাংলায় নারীদের নিরাপত্তার দাবিকেই তিনি তাঁর রাজনীতিতে আসার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

সব মিলিয়ে, পানিহাটির এবারের নির্বাচনী সমীকরণ বেশ জটিল। ২০১৬ সালে এখানে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের নির্মল ঘোষ। এ বার সিপিএম তরুণ নেতা কলতান দাশগুপ্তকে প্রার্থী করেছে, যিনি আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। ফলে বিরোধী ভোটে বিভাজনের সম্ভাবনা প্রবল, যা তৃণমূল প্রার্থী তথা নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষের পক্ষে সুবিধা এনে দিতে পারে।


Share