Assembly Election

ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশনেই কড়া নজরদারি, ভোটে নতুন নিরাপত্তা বলয়ে নির্বাচন কমিশন

এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে সোমবার হুগলি জেলাশাসক দফতরে বৈঠক করেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। উপস্থিত ছিলেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সুনীলকুমার যাদব, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ-সহ অন্যান্য আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৪৬

আসন্ন ভোটে নতুন করে কড়াকড়ি বাড়াল নির্বাচন কমিশন। এ বার চালু হচ্ছে ‘ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন’ ব্যবস্থা। বুথে ঢোকার আগেই ভোটারদের পরিচয় যাচাই করবেন বিএলওরা, তারপরই মিলবে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি। বুথের ভিতরে ও বাইরে থাকবে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা, পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে সোমবার হুগলি জেলাশাসক দফতরে বৈঠক করেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। উপস্থিত ছিলেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সুনীলকুমার যাদব, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ-সহ অন্যান্য আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাস্তায় নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে, যাতে বেআইনি অস্ত্র বা নগদ লেনদেন রোখা যায়। ভোটের দিন কোনও হিংসা বা ছাপ্পা ভোট বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। বুথে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুথের বাইরে থাকবে ভোটার শনাক্তকরণ টিম এই দুই স্তরের যাচাইকেই বলা হচ্ছে ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন। এছাড়া স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিমও নজরদারিতে থাকবে।

জেলাশাসকের দাবি, নির্বাচন বিধি জারি হওয়ার পর থেকেই বড়সড় সাফল্য মিলেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিঙ্গুর ও চণ্ডীতলা এলাকায় বেআইনি মদ তৈরির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গত এক মাসে প্রায় আট কোটি টাকার মদ আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চন্দননগর এলাকায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। চুঁচুড়া ফেরিঘাট থেকে ৯৬ হাজার টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সংশোধনাগারে থাকা ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। ভোটের দিন অন্তত ২০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় তাদের ব্যবহার করা হবে বেশি। জেলায় মোট ৫৩৮৭টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বিধানসভায় একটি করে মডেল বুথ তৈরি করা হবে, পাশাপাশি একাধিক মহিলা পরিচালিত বুথও থাকছে।

এ ছাড়াও, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ ভোটার ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।


Share