BLO Suspended

দেওয়াল লিখন থেকে সাইকেলে দলীয় পতাকা লাগিয়ে ভোটার স্লিপ বিতরণ! তিন বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলপন্থী পাঁচ বিএলওকে সাসপেন্ড করল কমিশন

কমিশন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনজন বিএলও তৃণমূলের হয়ে দেওয়াল লিখনে অংশ নিয়েছিলেন।

তৃণমূল যোগে পাঁচ বিএলওকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৩

তৃণমূল হয়ে সরাসরি প্রচারের বুথ স্তরের আধিকারিক। অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচনকমিশন। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনা ও বীরভূম জেলায় মোট পাঁচজন বুথ লেভেল অফিসার(বিএলও)-কে সাসপেন্ড করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত পাঁচ বিএলও-র বিরুদ্ধে সরাসরি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিধানসভার তিনজন বিএলও— তপনকুমার সাহা, অভিজিৎ দে এবং কুমারজিৎ দত্ত এবং বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভার বিএলও মঞ্জুরী চট্টোপাধ্যায় ও ময়ূরেশ্বর এলাকার এক বিএলও এই তালিকায় রয়েছেন।

অশোকনগর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর হয়ে বিএলও কুমারজিৎ দত্তকে মাইকে প্রচার করছেন। তপনকুমার সাহা তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে মাইকে প্রচার করছেন। এমনকী, তাঁর হয়ে দেওয়াল লিখছেন। বিএলও অভিজিৎ দে-ও সরাসরি তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর হয়ে প্রচার করছেন। এর আগে তিন জনকেই শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল।

তপন জানিয়েছিলেন, তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে রাজনৈতিক জনসভা হচ্ছিল। সেই সময় তাঁর বুথের ভোটারেরা তাঁকে এসআইআরে নাম কেন কাটা গিয়েছে তা জানতে চান। বিএলও তপনকুমার সাহা এবং অভিজিৎ দে শো কজের জবাব দিলেও তা কমিশনের কাছে সন্তোষজনক ছিল না। উল্লেখযোগ্যভাবে, কুমারজিৎ দত্তকে শো-কজের জবাব দিতেও অস্বীকার করেন। তাই এঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন।

অন‍্য দিকে বীরভূমের দুবরাজপুরের বিএলও মঞ্জুরী চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ভোটার স্লিপ বিলি করছিলেন। সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পরে পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ময়ূরেশ্বরের এক বিএলও সাইকেলে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করছিলেন। ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে তাঁকেও সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি এফআইআর দায়েরের নির্দেশদেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দফতর ছেড়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। দফতরের আধিকারিকের নির্দেশ ছাড়া তাঁদের কোথাও যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তদন্তকে কোনও ভাবেই প্রভাবিত করা যাবে না। তদন্তের স্বার্থে যখন ডাকা হবে তখন তাঁকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


Share