Forced Conversion

জোর করে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ, দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজের আবেদন শুনল না হাই কোর্ট, তদন্ত চালিয়ে যেতে নির্দেশ ডিভিশন বেঞ্চের

আদালত এই মামলার পর্যবেক্ষণে আরও জানায়, অভিযোগকারী ছাত্রী বিচারবিভাগীয় ম‍্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছে। তা খারিজ করা যায় না।

এলাহাবাদ হাই কোর্ট।
বৈশালী কর্মকার, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৫৩

জোর করে হিন্দু ছাত্রীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল। তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের। শুক্রবার এলাহাবাদ হাই কোর্টে দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু আদালত দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেনি। দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশকে তদন্ত চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের তিনজন ছাত্রীর বিরুদ্ধে তার এক হিন্দু সহপাঠী অভিযোগ করেন যে তাঁকে জোর করে বোরখা পরানোর চেষ্টা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে গোমাংস খাওয়ানোর চেষ্টাও অভিযুক্ত তিনজন করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই তিন জন মুসলমান ছাত্রী ও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীকালে সেই মামলা খারিজ এর জন্য ওই তিনজন ছাত্রী এলাহাবাদ হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি জে জে মুনির এবং বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে জানায়, তরুণদের মধ্যে এই জোরপূর্বক ধর্মান্তর করানোর অভিযোগ অত‍্যন্ত উদ্বেগজনক। তরুণদের উচিত, ছাত্র অবস্থায় তাঁদের নিজেদের শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করা। একই সঙ্গে তাঁদের উচিত নিজের জীবন সমাজ ও দেশের সেবায় উৎসর্গ করা। 

গত ২০২১ সালে উত্তরপ্রদেশে ‘বেআইনি ধর্মান্তরকরণ বিরোধী’ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আদালত ২০২১ সালের এই আইনের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। ওই আইনের দাঁড়াই এই মামলা কার্যকর করতে বলেছে হাই কোর্ট। এ দিন এলহাবাদ হাই কোর্ট আদালত পর্যবেক্ষণে এ-ও জানিয়েছে, এই আইনটি প্রয়োগ করার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি থামিয়ে দেওয়া হয় তবে এই আইনের উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।

ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাঁদের মধ্যে তিন জনের মামলা খারিজের আবেদন এলহাবাদ হাই কোর্টে জানানো হয়। দুই বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন পুলিশের কাছ থেকে কেস ডায়রি নিয়ে খতিয়ে দেখেন। তা দেখে আদালত মন্তব্য করে, কেস ডায়েরি থেকে লক্ষ্য করেছি যে, অভিযোগকারী ছাত্রীকে একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত আলিনা-সহ অন্যান্য সহ-অভিযুক্তরা তাকে বোরকা পরতে বাধ্য করে। ওই গলিতে অবস্থিত সিসি ক্যামেরায় ধরা তা পড়েছে।

আদালত এই মামলার পর্যবেক্ষণে আরও জানায়, অভিযোগকারী ছাত্রী বিচারবিভাগীয় ম‍্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছে। তা খারিজ করা যায় না। ২০২১ সালের সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী এই ঘটনায় অপরাধের ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ছিল। প্রতিশোধ নিতে ওই ছাত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, মামলাটি তাই খারিজ করা হোক।

তবে, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে পুলিশকে আদালত সতর্ক করেছে। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, এই আইন থেকে ব্যবহার করে যেন কোন মিথ্যা অভিযোগকে উৎসাহিত না করা হয়। তিন ছাত্রীর ফৌজদারি ধারায় দায়ের হওয়া মামলা খারিজের দাবি নাকোচ দেওয়া হয়েছে। আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত চালিয়ে যেতে তদন্তকারীদের নির্দেশ দিয়েছে এলহাবাদ হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।


Share