Fake Documents

জাল নথি ব‍্যবহার করে সরকারি পুরস্কার! মুখ্যমন্ত্রী যোগীর হাত থেকে নিয়েছিলেন পদকও, ফিরিয়ে নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার

তদন্ত কমিটির সদস্য তথা প্রতাপগড়ের একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার জানান, সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি ও তথ্য যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তা লখনউে সদর দফতরে পাঠানো হবে।

অভিযুক্তের নাম রাজনীশ যাদব ওরফে অজয় কুমার
নিজস্ব সংবাদদাতা, লখনউ
  • শেষ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:১১

তিনি স্কুলছাত্র। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাত থেকে পুরস্কারও তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হতেই চোখ কপালে ওঠে স্কুল পরিদর্শকের। পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত যুবকের নাম অজয় কুমার। জগৎ প্রসাদ নামে আরেক যুবক পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরই বিষয়টি সামনে আসে। জগৎ প্রসাদ অজয়ের আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন‍্য উত্তরপ্রদেশের শিক্ষা দফতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। নথি যাচাই করতে দু’সদস‍্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।

তদন্তের জানা গিয়েছে, রাজনীশ যাদব আদতে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের বৈজলপুর গ্রামের বাসিন্দা বাসিন্দা। তবে তাঁর নাম রাজনীশ যাদব নয়। আসল নাম অজয় কুমার। শুধু নাম নয়, নিজের জন্ম তারিখও বদলে দেওয়া হয়েছিল। আধার কার্ডে জন্মসাল ২০১০ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, তাঁর জন্মসাল ২০১০ নয়, ১৯৯৮। প্রতাপগড় জেলার স্কুল পরিদর্শক এ কথা জানিয়েছেন। 

জানা গিয়েছে, সংস্কৃত বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল ‘রাজনীশ যাদব’ নামে এক পরীক্ষার্থী। তার জন্য তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁকে উত্তর মধ্যমা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য একটি অনুষ্ঠান থেকে এক লক্ষ টাকা, ট্যাবলেট, পদক ও শংসাপত্র তুলে দিয়েছিলেন। তার কয়েক মাস পর বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে এল। এর পরই গত বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁকে দেওয়া সমস্ত পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীরা পুরস্কারগুলি উদ্ধার করতে তাঁর বাড়িতে যায়। কিন্তু তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি কারণ বাড়িটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল।

পুলিশ অজয় কুমারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির ধারায় মামলা রুজু করেছে। পুলিশের দাবি, জগৎ প্রসাদ জানিয়েছেন যে অজয় কুমার এলাহাবাদ বোর্ডের অধীনে হাইস্কুল ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা পাশ করেছেন। পরে  পূর্বাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেছেন। ওই সমস্ত শিক্ষাগত নথিতে তাঁর জন্মতারিখ ১৯৯৮ সালের ১৩ মে হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়াও, রেশন কার্ডে তাঁর নাম অজয় কুমার, বাবার নাম হরিলাল এবং জন্মতারিখ ১৩ মে, ১৯৯৮ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম অজয় কুমার হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য তথা প্রতাপগড়ের একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার জানান, সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি ও তথ্য যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তা লখনউে সদর দফতরে পাঠানো হবে।

অভিযোগকারী জগৎ প্রসাদ এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কীভাবে অভিযুক্ত ভুয়ো নথি তৈরি করলেন এবং এই কাজে তাঁকে অন্য কেউ সাহায্য বা নির্দেশ দিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন তিনি।


Share