Barun Biswas Murder Case

বরুণ বিশ্বাস খুনে নতুন মোড়, মামলায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম জুড়ে পুলিশের দ্বারস্থ সহযোদ্ধা নন্দদুলাল

আগামী ৩১ অগস্ট বনগাঁ আদালতে মামলার শুনানি রয়েছে। বরুণ বিশ্বাসের পরিবার জানিয়েছে, নন্দদুলালের আইনি পদক্ষেপ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে পরিবারের আলাদা কোনও অবস্থান নেই।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৫:০০

সুটিয়ায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম মুখ বরুণ বিশ্বাসের হত্যাকাণ্ডে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার এই মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন বরুণের আন্দোলনের সহযোদ্ধা নন্দদুলাল দাস। এর আগে বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এই ঘটনায় প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার নন্দদুলাল বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাঁর দাবি, ২০১২ সালে বরুণ বিশ্বাস খুন হওয়ার পর প্রকৃত তদন্তকে প্রভাবিত করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভূমিকা রয়েছে। তিনি ওই অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে নতুন করে তদন্ত শুরুর আবেদন জানিয়েছেন।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের তরফে এই ঘটনার পুনর্তদন্তের দাবি জানানো হয়। তাঁদের আশ্বাস দেওয়ার পর থেকেই সিআইডি মামলাটি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী দল গোবরডাঙায় বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়েছিলেন।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

আগামী ৩১ অগস্ট বনগাঁ আদালতে এই মামলার শুনানি রয়েছে। ওই দিন বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দদুলাল দাসের অভিযোগ এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, সেই বিষয়েও আদালতের শুনানির দিন সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারে।

এ দিকে, বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস জানিয়েছেন, আইনি পথে পদক্ষেপ করার অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। নন্দদুলাল দাস তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এই বিষয়ে বিশ্বাস পরিবারের আলাদা কোনও অবস্থান নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

নন্দদুলাল দাস নিজেও একজন স্কুলশিক্ষক। তাঁর অভিযোগ, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন। ফলত তাঁকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে তাঁকে মাওবাদী তকমা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত অভিযুক্তদের আড়াল করতে সেই সময় হত্যার দায় সিপিএমের উপর চাপানোর চেষ্টা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন (মেন)-এর বাংলার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। সুটিয়ায় নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। স্থানীয় স্তরে দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলে তাঁর পরিবার দাবি করে আসছে।


Share