Eviction

রেলের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তাল কৃষ্ণনগর স্টেশন, পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ

অবৈধ হকার, সংগঠনের কর্মী-সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে বচসা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুনর্বাসনের দাবি তুলে বিক্ষোভকারীরা অভিযানের বিরোধিতা করেন।

কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বরে অবৈধ হকার উচ্ছেদ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১১:৩২

সর্বত্রই চলছে রেলের জমি দখলমুক্ত করার অভিযান। এ বার সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বর মঙ্গলবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে অবৈধ হকার, সংগঠনের কর্মী-সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে তীব্র বচসা, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেল পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, স্টেশন চত্বর ও রেলের জমিতে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ দোকান, স্থাপনা এবং দখলদারি ১৬ জুনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশ জারির পর থেকেই বিভিন্ন অবৈধ হকার সংগঠন এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়।

মঙ্গলবার রাতে নির্ধারিত সময়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। তখন আন্দোলনকারীরা এর বিরোধিতায় সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনও নিশ্চয়তা না দিয়েই বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই প্রথমে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। যা পরে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনায় পরিণত হয়।

বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অভিযানের সময় বুলডোজার দিয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা একাধিক দোকান, অস্থায়ী কাঠামো ও অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। অভিযোগ, সিটুর একটি স্থানীয় কার্যালয়ও ভাঙা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন গোটা স্টেশন চত্বরে চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।

অভিযান শেষে বিক্ষোভকারীরা রেল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, গরিব হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে রেল সূত্রের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা রেলের সম্পত্তি উদ্ধার এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন হকার সংগঠন ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে কৃষ্ণনগর স্টেশনের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


Share