Arms Seized

হাবড়ায় উদ্ধার বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র, আন্তঃরাজ‍্য পাচারচক্রে জড়িত গৃহবধূ, দাবি সিআইডির

ধৃতের নাম পূজা বিশ্বাস। পূজা বাড়ি হাবড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দা। দক্ষিণ হাবড়ায় নিবেদিতা রোডের ওপরে তাঁর বাড়ি। বাড়িতে তাঁর স্বামী রয়েছে। স্বামী পেশার রাজমিস্ত্রি।

বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করেছে সিআইডি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাবড়া
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ০৮:২৫

উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সিআইডি এবং এসওজি। ঘটনায় এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিহার থেকে অস্ত্রগুলি আনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। আন্তঃরাজ‍্য অস্ত্র পাচারচক্রে গৃহবধূদের কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

ধৃতের নাম পূজা বিশ্বাস। পূজা বাড়ি হাবড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দা। দক্ষিণ হাবড়ায় নিবেদিতা রোডের ওপরে তাঁর বাড়ি। বাড়িতে তাঁর স্বামী রয়েছে। স্বামী পেশার রাজমিস্ত্রি। পূজার স্বামীর দাবি, ১০-১২ দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার দেখা হয়েছিল। তার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

রাজ‍্য পুলিশের সিআইডি এবং এসওজির কাছে গোপন সূত্রে অস্ত্র পাচারের খবর আসে। সেই মতো অশোকনগর থানার পুলিশের সাহায্যে রবিবার সকালে অশোকনগর মোড়ে তাঁরা অপেক্ষা করেন। একটি ম‍্যাজিক গাড়ি দাঁড় করান। তাতেই ছিল পূজা। তাঁর ব‍্যাগে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করে সিআইডির গোয়েন্দারা।

এ দিন বিকেলে ভবানী ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন সিআইডির ডিজি নটরাজন রমেশবাবু। তিনি জানান, ৪টি ৭এমএম, দু’টি  ৯এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২টি ম্যাগাজিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০০ রাউন্ড ৭.৬ এমএম কার্তুজও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ব‍্যাগে ১২ হাজার টাকা নগদ ছিল। সেই সঙ্গে দু’টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নটরাজন রমেশবাবু। মোবাইল ফোনে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজগুলি জামালপুর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির। পুলিশ ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ করেছে। অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির গুদামে আগ্নেয়াস্ত্র কম আছে কি না এবং সেগুলি কোন ব্যাচের তা জানতে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চার সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। এই দলটিতে একজন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক নেতৃত্ব দেবেন।

রাজ্যে নির্বাচন শেষ। তার পরেও বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেন নিয়ে আসা হচ্ছিল তা জানার চেষ্টা করছে সিআইডি। ধৃত পূজা জামালপুর থেকে বেরোনোর পর কোন রুটে কোথায় কার কাছে যাচ্ছিল, সেই গতিবিধি জানতে চাইছে পুলিশ। বিহার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও সিআইডির ডিজি জানিয়েছেন।

প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, বিহার থেকে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র কিনে হাবরায় তা হস্তান্তর করার ছক কষা হয়েছিল। একাধিক মহিলাদের মাধ্যমে পাচারচক্র চলছিল বলে পুলিশ দাবি করছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, যাতে কেউ সহজে সন্দেহ না করে, সেই কারণেই অস্ত্র পাচার সিন্ডিকেটে মহিলাদের কাজে লাগানো হচ্ছে। বিশেষ করে গৃহবধূদের এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে পুলিশের এক সূত্র দাবি করেছে।


Share