Baruipur Incident

অভিযুক্তের বয়ানে অসঙ্গতি, নির্দিষ্ট ধারা মেনে বয়ান রেকর্ড করতে পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারকে যেমন আশ্বাস দিয়েছেন তার পাশাপাশি বয়ান রেকর্ডে অসঙ্গতি থাকার কারণে আরোও ভালো করে জেরা করে বয়ান রেকর্ড ঠিকমতো করতে হবে। আইন মেনে করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে বয়ান রেকর্ড করতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১০:২১

বারুইপুরে গনধর্ষন ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতেরা হল— প্রভাস মন্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার। প্রভাস মন্ডলের সঙ্গেই শেষ পর্যন্ত নাবালিকাকে দেখা গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস দেওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ গ্রেফতার করে। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রভাস মন্ডলকে জেরা করা হলেও বারবার বয়ান বদল করছে সে। তিনি বলছেন, “আমি জানি না।”

এই ঘটনার পর মঙ্গলবার রারুইপুরে পুলিশ সুপারের অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। রাজ‍্য পুলিশের ডিজি, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি-সহ পুলিশের শীর্ষ অধিকারিকেরা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারকে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশ্বাস দিয়েছেন। তার পাশাপাশি আইনী প্রক্রিয়া যাতে সব ঠিকঠাক থাকে তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রের খবর, বয়ান যদি অসঙ্গতি থাকে আরোও ভালো করে অভিযুক্তদের জেরা করতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। সেই বয়ান ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতা এবং শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী করতে হবে বলেও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবার মোট চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিন জন অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও এখনও একজন অধরা রয়েছে। তাই চতুর্থ জনকে পারলে পাতাল থেকে খুঁজে নিয়ে আসতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উল্লেখ্য, ঘটনার তদন্তে নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, শনিবার বিকেল ৪টে ৪১ মিনিট নাগাদ সূর্যপুর বাজারের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে কিশোরীকে দেখা যাচ্ছে। তার কয়েক পা পিছনেই এক যুবক লাল টি শার্ট এবং মাথায় নীল রঙের টুপি যাচ্ছে। তার ঠিক তিন মিনিটের পরেই ওই যুবকের সঙ্গে হেঁটে আবার ফিরে আসছে ওই কিশোরী। স্থানীয়দের বক্তব্য, ওই ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরেই ওই যুবককে প্রভাস মন্ডল বলেই চিহ্নিত করে স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, প্রভাসকে নিয়েই রবিবার সকাল সাতটা নাগাদ ওই বাজার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে একটি পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত প্রভাসকে জেরা করে যে তথ্য পুলিশ পেয়েছে, তাতে প্রভাস বিভ্রান্ত করেছেন বলেই মনে করছে তাঁরা। কারণ, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, কিশোরী কেন প্রভাসের সঙ্গে ফিরে এল তার কোনও সদুত্তোর প্রভাস দিতে পারেনি। প্রভাস জেরায় দাবি করেছে, আনন্দই ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। তাহলে প্রশ্ন হল, প্রভাস যদি ঘটনাস্থলেই না থাকে তাহলে কে খুন করেছে তা তিনি কীভাবে জানলেন? পাশাপাশি কিশোরীর দেহ কোথায় রয়েছে তা-ও তিনি কীভাবে জানলেন?

শুধুমাত্র প্রভাস নয়, বাকি অভিযুক্তদের বয়ানেও অসঙ্গতি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, অভিযুক্তরা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ছিল। যৌন নির্যাতনের পরে কেন খুন করা হল তার কারণ হিসেবে দু’টি সম্ভাবনার দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এক, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তরা সবাই এলাকারই বাসিন্দা। তাই নির্যাতিতা অভিযুক্তদের শণাক্ত করে ফেলতে পারতেন। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে কিশোরীর মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুন করা হয়েছে। দ্বিতীয়, শনিবার রাত আটটা থেকে এলাকার লোকজন নিখোঁজ কিশোরীর খোঁজ শুরু করে। সেই খবর অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিশোরীর মাথায় ভারী কিছু বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। এর জেরে জ্ঞান হারায় ওই নির্যাতিতা কিশোরী। এর পরে সুযোগ বুঝে তা বস্তাবন্দি করে পুকুরের জলে ফেলে দেওয়া হয়।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রভাস মন্ডল নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দিবাকর সর্দার নামে আরেক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে আনন্দ সর্দারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দিবাকর এবং প্রভাসকে বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আনন্দকেও আদালতে হাজির করানো হলে তাঁকেও পুলিশ হেফাজত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতেরা বারবার বয়ান বদল করছে। ধৃতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। ঘটনার দিনে মাদক সেবন আদৌ করেছিল কি না তা নিশ্চিত হতে রিপোর্টের অপেক্ষা তদন্তকারীরা করছে। পুলিশ সূত্রের এ-ও জানা গিয়েছে, ধৃতদের একসাথে বসিয়ে জেরা করবে সিটের সদস্যরা।


Share