Murder Case

বিরিয়ানিতে বিষ মিশিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ! কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যু, শান্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের

স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে খাবারে বিষ মিশিয়ে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের মা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৩২

স্বামী কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে। ঘরে ফিরে খেয়েছিলেন বিবিরিয়ানি। তাতেই বিষ মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করছে পুলিশ। ঘটনায় শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

নদিয়ার শান্তিপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত যুবকের নাম খোকন কারিগর। পরিবার সূত্রের খবর, খোকন মহারাষ্ট্রের পুনেতে হোটেলে কাজ করতেন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছর তিনি সেখানেই ছিলেন। চলতি মাসের ১ অক্টোবর খোকন বাড়িতে ফেরেন।

পরিবারের কথায়, খোকন রাজ্যের বাইরে থাকার সুযোগে তাঁর স্ত্রী হাসিনা কারিগরের সাথে অন্য এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা নিয়ে বাড়ির অন‍্য সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই অশান্তি ও কথা কাটাকাটি লেগেই থাকত। খোকন বাড়ি ফেরার পর সম্পর্কের কথা জানতে পারে। তা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বচসা হয়। সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা হাসিনা ও তাঁর প্রেমিক মিলে করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, গত ৫ অক্টোবর বাড়িতে সকলের জন্য বিরিয়ানি রান্না করা হয়েছিল। বাড়ির সবাই সেই খাবার খেলেও একমাত্র খোকন কারিগরেরই পেটের সমস্যা, বমি এবং ডায়রিয়া শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, তাঁর গলায় ক্ষত দেখা গিয়েছে। তাঁকে ঘাস মারার বিষ বা তীব্র বিষক্রিয়ায় কারণে গলায় ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সেখানেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কল্যাণী এইমস ঘুরে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় ছ’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর খোকন কারিগরের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর মৃতের মা— সালেহা কারিগর শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে এক জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছে। ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


Share