Minor Murder

মুর্শিদাবাদে চার বছরের শিশুকন্যাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ সৎ মায়ের বিরুদ্ধে, গ্রেফতার অভিযুক্ত মহিলা

দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত বলে অভিযোগ পরিবারের। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত মৌসুমি খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৮

চার বছরের শিশুকন্যার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার কাটাবাড়ি সরকারপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়াল। শিশুটিকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হত বলে অভিযোগ। সেই অত্যাচারের জেরেই তাকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। মৃত শিশুর নাম ফারজানা খাতুন। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সৎ মা মৌসুমি খাতুনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি, এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারা ফাঁসির দাবিও তুলেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফারজানার বাবা কাজের সূত্রে কেরালায় থাকেন। প্রায় তিন বছর আগে শিশুটির জন্মদাত্রী মা সংসার ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর মৌসুমি খাতুনকে ফারজানার বাবা বিয়ে করেন। অভিযোগ, তারপর থেকেই শিশুটির উপর অত্যাচার শুরু হয়। প্রতিবেশীদের দাবি, দিনের পর দিন তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হত না। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ থেকেও সে বঞ্চিত ছিল। প্রায়ই মারধর করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক অনুমান, শনিবার রাতেও ফারজানাকে মারধর করা হয়েছিল। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাগরপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ মাকে পুলিশ গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে শিশুকন্যার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাঁরা সরব হয়েছেন। মৃত শিশুর আত্মীয় নুরেফা বিবি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ফারজানার উপর অত্যাচার চালানো হত। তাঁর কথায়, “সৎ মা প্রতিদিন শিশুটির ওপর অত্যাচার করত। ঠিকমতো খেতে দিত না। মারধর করত। বাচ্চা যাতে কাঁদতে না পারে সেজন্য মুখ চেপে ধরত। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টে ঝগড়া করত। গোটা দিন বাচ্চাটাকে ঘরে ফেলে রাখত, কাউকে দেখতে দিত না।”

নুরেফা বিবির আরও দাবি, ঘটনার দিন সকালে গিয়ে তাঁরা শিশুটিকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, কাউকে কিছু না জানিয়েই শিশুটিকে নিয়ে তার সৎ মা দাঁড়িয়েছিলেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ফারজানাকে মৃত বলে জানান। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃত শিশুর পরিজন ও এলাকার বাসিন্দারা।


Share