Suvendu Adhikari

এটা কোনও আকস্মিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়! বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে রাজ‍্যপালকে চিঠি শুভেন্দু অধিকারীর

বিরোধী দলনেতা ২০২৫ সালের মুর্শিদাবাদের অশান্তির ঘটনার কথাও রাজ‍্যপালকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ২০২৫ সালে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানগঞ্জ ও সমশেরগঞ্জে অশান্তিতে হরগোবিন্দ দাস ও তার ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই ঘটনার কথাও রাজ‍্যপালকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ‍্যপালকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

এটা কোনও আকশ্মিক ঘটনার বহিঃপ্রকাশ নয়। এটা পূর্বপরিকল্পিত। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে এমনই দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি রাজ‍্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বেলডাঙায় শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হোক। এলাকায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হোক।

এ বার সেই ঘটনায় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের দাবি জানিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি এলাকায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করার দাবি রাজ‍্যপালের কাছে জানিয়েছেন। রাজ‍্যপালকে দেওয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, “বেলডাঙার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যেন তৎপরতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করা হয়। পাশাপাশি তিনি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারাও জারি করার আর্জি জানাচ্ছি।”

বিরোধী দলনেতা মাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, “সিএএ এবং ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যেমন পূর্বপরিকল্পিত ছিল, এই ঘটনাটিও তেমন। সেই সময়ও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।” রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এমন ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে আসতেই। পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিনা বাধায় দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। কেন? কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথাকথিত ভোটব্যাঙ্ককে অসন্তুষ্ট করা চলবে না!” 

তার সঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের মুর্শিদাবাদের অশান্তির ঘটনার কথাও রাজ‍্যপালকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ২০২৫ সালে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানগঞ্জ ও শমসেরগঞ্জে অশান্তিতে হরগোবিন্দ দাস ও তার ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই ঘটনার কথাও রাজ‍্যপালকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। 

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত‍্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তাণ্ডব চলে। শনিবার সকালে আবার উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। রেলগেট, সিগন্যাল ভাঙচুর করা হয়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে তান্ডব চলে। বৃহস্পতিবার অশান্তির ঘটনায় সাংবাদিক-সহ ১২ জন জখম হয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের পরে অবশেষে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ৩০ জনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে শিয়ালদা-লালগোলা এক্সপ্রেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


Share