Special Intensive Rivision

সিইও দফতরে তৃণমূলপন্থী বিএলও বিক্ষোভে উত্তেজনা, ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা, তবুও কমিশনের হাতে পৌঁছায়নি রিপোর্ট

সিইও দফতরে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল কি না, সেই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তলব করা রিপোর্ট এখনও জমা হয়নি। তবে লালবাজারের আশ্বাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট পৌঁছে যাবে, নিরাপত্তা নিয়েও নেই কোনও অভিযোগ।

সিইও অফিস
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৩০

সিইও দফতরে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের। এই প্রশ্নে রাজ্য নির্বাচনী দফতরকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলেও এখনও সেই রিপোর্ট কমিশনের হাতে পৌঁছায়নি। যদিও লালবাজার সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

লালবাজার মনে করছে, ২৪ তারিখের ঘটনাকে নিরাপত্তা বিঘ্নের মধ্যে ফেলা ঠিক হবে না। তাঁদের দাবি, সেদিন ঘটনাস্থলে কোনো অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ১৩ জন বিএলও-র কাছে অতিরিক্ত সিইওর লিখিত অনুমতি ছিল। তাই নিয়ম মেনে তাঁদের সিইও দফতরের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেকারণে ঘটনার দিন সেখানে কোনো অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

লালবাজারের এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘সিইও দফতরের কোনও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। সেখানে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। বিঘ্নিত হয়েছে এমন কোনও খবর আমরা পাইনি। রিপোর্ট বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই দিয়ে দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, বিএলও–দের বহুমুখী দাবি নিয়ে সোমবার সকালেই বের হয়েছিল কলেজ স্কোয়ার থেকে একটি মিছিল, যা সিইও দফতরের সামনে পৌঁছোতেই বাধার মুখে পড়ে। পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করলে আন্দোলনকারীরা তা টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় তুমুল অশান্তি তৈরি হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয় এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল ডেপুটেশন নিয়ে দফতরে প্রবেশের অনুমতি পান।

তবে বিকেল সাড়ে ৪টের দিকে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। সিইও–র কেবিনে ডেপুটেশন জমা দিতে যাওয়ার আগেই সেই প্রতিনিধিদল নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

একই সময় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরাও ডেপুটেশন জমা দেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টার টানাপড়েনের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অবশেষে ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত বিএলওরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত এবং এর ফলে বিএলও–দের ওপর অস্বাভাবিক কাজের চাপ পড়ছে। 

শেষ পর্যন্ত ১৩ জনের প্রতিনিধিদল সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিএলও-এর প্রতিনিধি দল তাদের এসআইআর-এর সময় বাড়ানোর পাশাপাশি আরোও বিভিন্ন দাবি জানান জানান। তাদের কথার প্রেক্ষিতে মনোজ আগরওয়াল বিএলওদের জানিয়েছেন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিষয়টি তিনি দিল্লিতে জানাবেন। এছাড়াও মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রত্যেক বিএলওকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। বিএলও অ্যাপের সমস্যা নিয়েও সমাধান করার চেষ্টা করবেন তিনি। বিএলওদের দীর্ঘ বিক্ষোভ ও আলোচনার পর অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই বিবাদী বাগ মোড়ের আন্দোলনের ইতি ঘটে। 


Share