Political Chaos

সরকার বদলাতেই ফাঁস ‘সরকারি জমি দখল’ কাণ্ড! হাই কোর্টের ভাঙার নির্দেশ কার্যকর চেয়ে পথে বিজেপি, চাপে প্রাক্তন তৃণমূল নেতারা

কিন্তু অভিযোগ, সেই কাজ না করে সরকারি জমিতে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়। এমনকি সেখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ও চালানো হত বলে দাবি স্থানীয়দের।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০১:০১

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে সামনে এল বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, পঞ্চায়েতের তরফে শৌচালয় ও অতিথি নিবাস নির্মাণের জন্য প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকার টেন্ডার পাশ হলেও সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তে তৎকালীন তৃণমূল নেতাদের উদ্যোগে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠে অবৈধ নির্মাণ। এ বার সেই নির্মাণ ভাঙার দাবিতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় একসময় সরকারি ঘোড়াগাড়ি স্ট্যান্ড ছিল। পরে হরিশ্চন্দ্রপুর পঞ্চায়েত সমিতির তরফে সেখানে শৌচালয় ও অতিথি নিবাস তৈরির টেন্ডার পাশ হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই কাজ না করে সরকারি জমিতে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়। এমনকি সেখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ও চালানো হত বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগের তিরে রয়েছেন তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আফজল হোসেন, ব্লক তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সাহেব দাস, যুব তৃণমূল নেতা দুর্জয় দাস এবং অঞ্চল সভাপতি সঞ্জীব গুপ্তা। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগে সঞ্জীব গুপ্তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, এই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আদালতেও মামলা হয়েছিল। আদালতের তরফে নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে সরকার বদলের পর হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছে বিজেপি।

অভিযোগকারী বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রায় বলেন, “আমি এই জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার হয়েছিলাম। একাধিকবার আমাকে তৃণমূল নেতারা আক্রমণ করেছে, এমনকি আমাকে ওদের আক্রমণে আহত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হতে হয়েছিল। এখানে আগে পঞ্চায়েতের অর্থে নির্মিত ঘোড়াগাড়ি স্ট্যান্ড ছিল। কিন্তু তৃণমূল পঞ্চায়েত দখল করার পরই সেটা ভেঙে দিয়ে এলাকার তৃণমূলের কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থে সেই জমি দখল করে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে দোকান ঘর তৈরি করে নেয় এবং সেটা ভাড়াও দিয়ে দেয়। আমি এই নিয়ে অভিযোগ করেছিলাম তৎকালীন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। আমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিল্ডিং ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু কার প্রভাবে এটা ধামাচাপা পড়ে যায় জানিনা। কিন্তু এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমি চাই এই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে সরকারি ভবন তৈরি হোক। সরকারি শৌচালয়, অতিথিশালা নির্মাণ করা হোক।”

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা সঞ্জীব গুপ্তা। তাঁর দাবি, “আমার নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। এই ভবন কারা ভেঙেছিল, কারা নতুন করে নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে, আমি সে সম্বন্ধে কিছুই জানি না। এখন নতুন সরকার এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখানে মানুষের স্বার্থে কিছু গড়ে তুলুক, এটাই আমরা চাই।”

এদিকে পূর্ত দফতরের দাবি, বছরখানেক আগেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে জমিটিকে সরকারি বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ভোটের সময় এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত থাকায় পদক্ষেপে দেরি হয়েছে। খুব শীঘ্রই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


Share