Electricity Demand

তীব্র গরমে রেকর্ড বৃদ্ধি পেল বিদ‍্যুতের চাহিদা, দুপুরের দিকে বেশি চাহিদা, জানাল কেন্দ্রীয় বিদ‍্যুৎ মন্ত্রক

বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ২৭০ গিগাওয়াটের সীমা অতিক্রম করে ২৭০.৮২ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১০:৫০

তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদ্যুৎ চাহিদা ২৭০ গিগাওয়াটের সীমা অতিক্রম করে ২৭০.৮২ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। যা সর্বোচ্চ বলেই জানানো হয়েছে। এসি, কুলার এবং অন্যান্য যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপপ্রবাহ চলছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। তার জেরে বাড়ি, অফিস, দোকানে সর্বক্ষণ ফ‍্যান চলছে। তার ওপর এসি-কুলার সংযোজন বিদ‍্যুতের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রাম থেকে শহরাঞ্চল, সর্বত্রই একই ছবি দেখা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক জানিয়েছে, চাহিদা বৃদ্ধির ফলে টানা চতুর্থ দিনে দেশের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা নতুন রেকর্ড গড়েছে। বুধবারের ২৬৫.৪৪ গিগাওয়াটের রেকর্ড ভেঙে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ২৭০.৮২ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “টানা চতুর্থ দিনের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২১ মে ২০২৬ বিকেল ৩টে পর্যন্ত ২৭০.৮২ গিগাওয়াট চাহিদা সফল ভাবে পূরণ করা হয়েছে।” মন্ত্রক আগেই অনুমান করেছিল যে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালে দেশের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২৭০ গিগাওয়াটে পৌঁছোতে পারে। তবে বর্তমান চাহিদা সেই পূর্বাভাসও ছাপিয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ২৪২.৭৭ গিগাওয়াট এবং ২০২৪ সালের মে মাসে তা পৌঁছেছিল ২৫০ গিগাওয়াটে।

কেন্দ্র মনে করছে, সোমবার থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। তাঁদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯ মে ছিল ২৫৭.৩৭ গিগাওয়াট, ২০ মে ২৬০.৪৫ গিগাওয়াট, ২১ মে ২৬৫.৪৪ গিগাওয়াট এবং বৃহস্পতিবার তা ২৭০.৮২ গিগাওয়াটে পৌঁছে গিয়েছে।

মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬২.৮ শতাংশ এখনও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি সৌরশক্তি ২২ শতাংশ, জলবিদ্যুৎ ৫.৮ শতাংশ এবং বায়ুশক্তি পাঁচ শতাংশ দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারে। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেই মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লার মজুত রয়েছে। কোথায় কীভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে সেই পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ দিকে আইএমডি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এবং তা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। আইএমডি জানিয়েছে,,বহু জায়গায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছোতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনীতির সম্প্রসারণ, নগরোন্নয়ন, গৃহস্থালির বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ডেটা সেন্টার এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের কারণে ২০২৭ অর্থবর্ষে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা আরও পাঁচ থেকে ৫.৫ শতাংশ বাড়তে পারে। তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলিতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

তাঁরা এ-ও মনে করছেন, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বাড়লেও বিদ্যুৎ পরিবহণের ‘ট্রান্সমিশন’ পরিকাঠামোর ঘাটতি এখনও রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থান ও গুজরাটের মতো রাজ্যে পর্যাপ্ত গ্রিড ও ট্রান্সমিশন ব্যবস্থার অভাবে অনেক নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না।

অন্য দিকে, এ রাজ্যেও বারংবার লোডশেডিং হওয়ার অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে রাজ‍্য বিদ‍্যুৎ বন্টন সংস্থার অধিনস্থ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। দুপুর এবং রাতে লোডশেডিং হচ্ছে। কখনও নিম্ন ভোল্টেজ হচ্ছে। আবার কখনও আচমকা ভোল্টেজের বৃদ্ধি হচ্ছে। এর জেরে কখনও ট্রান্সফর্মারে বিভ্রাট হচ্ছে। ফেজ উড়ে যাচ্ছে। এর নেপথ্যে দীর্ঘদিন জায়গায় বসানো ট্রান্সফর্মারগুলির রক্ষণাবেক্ষণ হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে।


Share