NEET Re-Exam

‘পুরো প্রশ্নফাঁস নয়, শুধু কিছু প্রশ্ন বাইরে গিয়েছিল!’, সংসদীয় কমিটির সামনে এনটিএ-র বিস্ফোরক সাফাইয়ে তোলপাড় দেশ

শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে এনটিএ দাবি করেছে, ‘গোটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও ঘটনাই ঘটেনি, স্রেফ কিছু প্রশ্ন পরীক্ষার আগে বাইরে চলে এসেছিল!’

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০৩:৩১

দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ডাক্তারি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ঘিরে যে নিট-ইউজি বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে, তা নিয়ে এবার সংসদীয় কমিটির সামনে বিস্ময়কর সাফাই দিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে এনটিএ দাবি করেছে, ‘গোটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও ঘটনাই ঘটেনি, স্রেফ কিছু প্রশ্ন পরীক্ষার আগে বাইরে চলে এসেছিল!’ এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল, পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।

গত ৩ মে দেশজুড়ে আয়োজিত হয়েছিল নিট-ইউজি ২০২৬ প্রবেশিকা পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার আগেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে আসল প্রশ্নপত্রের একাধিক অংশ বাইরে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ক্রমশ তীব্র হতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ১২ মে গোটা পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র সরকার। এরপরই এনটিএ-কে তলব করে সংসদের স্থায়ী কমিটি।

সূত্রের খবর, কমিটির সামনে হাজির হয়ে এনটিএ প্রধান অভিষেক সিং এবং উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশী স্বীকার করেন যে পরীক্ষায় অনিয়ম, কারচুপি এবং বেআইনি কার্যকলাপ ধরা পড়েছে। তবে তাঁদের দাবি, সেটিকে কোনওভাবেই 'সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁস' বা 'মাস পেপার লিক' বলা যায় না।

কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রশ্নফাঁস না-ই হয়ে থাকে, তবে কেন তড়িঘড়ি পরীক্ষা বাতিল করা হল? উত্তরে এনটিএ জানায়, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের আপস বা কারচুপির ক্ষেত্রে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে। প্রশ্নপত্রের সামান্য অংশও যদি পরীক্ষার আগে বাইরে চলে যায়, তাহলে গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই কারণেই পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে এনটিএ-র এই বক্তব্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের আগের মন্তব্যের স্পষ্ট অমিল সামনে এসেছে। গত ১৫ মে সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে নিট পরীক্ষার নিরাপত্তা বলয় এবং ‘চেন অফ কমান্ড’-এ বড়সড় গলদ ছিল। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছিলেন, এই ঘটনার নৈতিক দায় কেন্দ্র সরকার নিচ্ছে।

সংসদীয় কমিটিকে এনটিএ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিট পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ‘লিকপ্রুফ’ করতে ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আরও কিছু প্রযুক্তিগত কাজ দ্রুতগতিতে চলছে, কারণ পরবর্তী পরীক্ষার দিনক্ষণ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিবিআই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক দালাল, গৃহশিক্ষক, পরীক্ষাকেন্দ্রের কর্মী এবং প্রশ্ন পাচার চক্রের মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

বিতর্ক এবং তদন্তের মধ্যেই পুনরায় পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে এনটিএ। আগামী ২১ জুন ২০২৬ দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘রি-নিট’। পরীক্ষার্থীদের নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না এবং কোনও অতিরিক্ত ফি-ও দিতে হবে না। আগের রেজিস্ট্রেশনই বহাল থাকবে। পরীক্ষার আগে নতুন অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করা যাবে এবং পরীক্ষার্থীরা চাইলে পরীক্ষাকেন্দ্রের শহরও পরিবর্তন করতে পারবেন। ২১ জুন দুপুর দু'টো থেকে বিকেল পাঁচটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

এনটিএ আশ্বাস দিয়েছে, মে মাসের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকগুণ কড়া করা হচ্ছে। অতিরিক্ত নজরদারি, বহুস্তরীয় সিকিউরিটি প্রোটোকল এবং কঠোর পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতেই বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।


Share