TMC Political Crisis

দল বিরোধী কাজের জন্য ফিরহাদ হাকিম-সহ দশ জনকে বহিষ্কার করল ‘কালীঘাট তৃণমূল’, অভ‍্যন্তরীণ কোন্দল অব্যাহত

এই বৈঠকে ৩০ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তৃণমূলের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা। কিন্তু গত ২০২২ সাল থেকে কোনও বৈঠক ডাকা হয়নি।

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৩:৪৪

কারা আসল ‘তৃণমূল’। এই নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। এ বার ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ আহমেদ খান-সহ একাধিক তৃণমূল নেতাকে বহিষ্কার করল তৃণমূলের ‘কালীঘাট গোষ্ঠী’। সূত্রের খবর, দল বিরোধী কাজের জন্য তাঁদেরকে শোকজ করা হয়েছিল। তার পরেই তাঁদেরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

শুধু ফিরহাদ হাকিম নন তালিকায় রয়েছেন হাওড়া মধ‍্যের বিধায়ক অরূপ রায়, প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। যদিও সাসপেন্ড হওয়া নেতারা ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সিদ্ধান্তে নজর দিতে নারাজ।

গতকাল নিউ টাউনের একটি হোটেলে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর বিরোধীরা একটি বৈঠক করেন। সেখানে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। সেখানে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়-সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতারা ছিলেন। কলকাতা পুরসভার ১০০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর সেখানে ছিলেন। শুধু কলকাতা নয়, উত্তপাড়া, বহরমপুর, আসানসোলের নেতারাও ছিলেন। সেখানেই ঋতব্রত গোষ্ঠীরা দাবি করেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অপসারিত করা হয়েছে। 

এই বৈঠকে ৩০ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তৃণমূলের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা। কিন্তু গত ২০২২ সাল থেকে কোনও বৈঠক ডাকা হয়নি। তাই আইন মেনে এই কমিটি ভেঙে দিল ঋতব্রত ‘তৃণমূল’। সেই কর্মসমিতির বৈঠকে হাওড়া মধ‍্য বিধানসভায় বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, এই বৈঠক থেকে সহ-সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষকেও বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পাশাপাশি, সহ-সভাপতি পদে কলকাতার প্রক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও রাখা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এই পদের জন্য সাবিনা ইয়াসমিন এবং সন্দীপন সাহা এবং জাভেদ খানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আখরুজ্জামানকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।

এর পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁরাই আসল তৃণমূল। দেশে আইন রয়েছে। প্রতীক কার কাছে থাকবে তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হবেও জানান ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। 


Share