Narendra Modi

হরমুজের যুদ্ধ আবহে বড় সাফল্য! নিরাপদে প্রণালী পার করে ভারতমুখী হল ৬০টি জাহাজ, দেশে ফিরলেন তিন হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক

বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৪:০৫

পশ্চিম এশিয়ায় টানা উত্তেজনার আবহেও ভারতমুখী ৬০টি পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তিন হাজার ৯৭২ জন ভারতীয় নাবিককে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মধ্যেও কীভাবে এই উদ্ধার ও নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে, সেই কৌশল এ বার প্রকাশ্যে জানিয়েছে কেন্দ্র।

আমেরিকা-ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত মাসে ফের অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী একাধিক জাহাজ হামলার মুখে পড়ে। বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসে।

অস্থির পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ় প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু এবং একাধিক নাবিকের আহত হওয়ার ঘটনায় ভারত তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে নয়াদিল্লি দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে এমন হামলা কেন হল, তা নিয়ে কেন্দ্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। এ বার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, হরমুজ অঞ্চল থেকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। জাহাজ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, নাবিকদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছিল। এই কন্ট্রোল রুম চালু হওয়ার পর থেকে নাবিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোট ১৫ হাজার ৭৭১টি ফোন কল এবং ৩৬ হাজার ৪৯৯টি ইমেল এসেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

ভারতীয় নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে পুরো সময়জুড়ে কেন্দ্র নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দিতে ওয়েলফেয়ার কাউন্সেলর ও অভিজ্ঞ মনোবিদদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। যেখানে প্রয়োজন হয়েছে, নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ ও কাউন্সেলিং পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নাবিকদের যেকোনও প্রয়োজনে সহায়তা করতে সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত ছিল ডিজি কমিউনিকেশন সেন্টার (এমএমডিএসি)।

মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরি হয়। আমেরিকার হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত করে, যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে। বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাব ভারতের বাজারেও পড়ে। কারণ, দেশের প্রয়োজনীয় অশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার উল্লেখযোগ্য অংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে।

আমেরিকা ও ইরান দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই ভারতমুখী জাহাজগুলির নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পারাপারের চেষ্টা চালিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি। এ বিষয়ে আগেও একাধিকবার কূটনৈতিক স্তরে উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি, হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী ভারতমুখী জাহাজগুলির জন্য নিয়মিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শও কেন্দ্র জারি করেছে।

জাহাজ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগেই নাবিকদের সতর্ক করতে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি ইরানি বন্দরে যাওয়া বা হরমুজ় প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয় তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ছয় দফা সার্কুলার প্রকাশ করা হয়। ওই নির্দেশিকাগুলিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল জাহাজ মালিকদের। কারণ, ওই সময়কালে ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।


Share