Encounter

মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন কিশোরকে, উত্তরপ্রদেশে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত মূল অভিযুক্ত-সহ আরোও এক

অভিযুক্তদের খোঁজে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে এক অভিযুক্ত পুলিশের উপরে হামলার চেষ্টা করে অভিযোগ উঠে। তখনই আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায় পুলিশ। মূল অভিযুক্ত কাল্লুর শরীরে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই কাল্লুর মৃত্যু হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:০৪

ফের এনকাউন্টের ঘটনা উত্তরপ্রদেশে। দুষ্কৃতীরা এক কিশোরকে অপহরণ করে। তারপর মুক্তিপণ চায়। অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে খুন করা হয় কিশোরকে। শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে থেকেই মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরেই শুরু হয় এনকাউন্টার। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে মূল অভিযুক্তের। কিশোরের মৃত্যুর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা  ঝাঁসি-মির্জাপুর হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।

মৃত কিশোরের বাবা অশোক কুমার কেশরওয়ানি। বরগড় বাজারে তাঁর কাপড়ের দোকান রয়েছে। দুষ্কৃতীরা তাঁর ছেলে আয়ুষকেই অপহরণ করেছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে টিউশন পড়তে বেরিয়েছিল কিশোর। কিন্তু বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকজন চিন্তায় পড়ে যায়। তাঁরা খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করে। কিন্তু পরে জানা যায় আয়ুষ পড়তেই যায়নি। রাত ন'টা নাগাদ অপহরণকারীরা ফোন করে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চায়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই কিশোরের বাবা পুলিশে এফআইআর দায়ের করেন। আয়ূষের খোঁজে শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি। অভিযোগ এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়ুষকে খুন করা হয়। এ দিন ভোর চারটে নাগাদ বাড়ির সামনে একটি ঝোপের মধ্যে থেকে আয়ুষের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঝাঁসি-মির্জাপুর হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।

অভিযুক্তদের খোঁজে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে এক অভিযুক্ত পুলিশের উপরে হামলার চেষ্টা করে অভিযোগ উঠে। তখনই আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায় পুলিশ। মূল অভিযুক্ত কাল্লুর শরীরে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই কাল্লুর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, অন্য অভিযুক্ত ইরফানের পায়ে গুলি লেগেছে। পলাতক অন্য এক দুষ্কৃতী। তিন জনই প্রয়াগরাজের কর্মা এলাকার বাসিন্দা।

উল্লেখ্য, অভিযোগ উঠছে, অপরাধ-জনরোষ-গ্রেফতার-এনকাউন্টা যোগী আদিত্যনাথের জমানায় উত্তরপ্রদেশ 'বিচারে’র এই ধারা শুরু হয়েছে। যোগী নিজেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, অপরাধ করলে সোজা যমরাজের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে। তার পর থেকে গত আট বছরে লাগাতার এনকাউন্টার হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-এ ৪৮ জনের মৃত্যু হয় এনকাউন্টারে। নতুন বছরেও সেই ধারা বজায় থাকল।


Share