ED Raid on Narcotics Case

মাদক পাচার মামলায় ফের সক্রিয় ইডি, গোয়ার বিপুল পরিমাণ ‘এলএসডি ব্লট’ উদ্ধারের ঘটনার দেশজুড়ে ২৬টি ঠিকানায় ইডির তল্লাশি অভিযান

গোয়া পুলিশের পুরোনো এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি ইসিআইআর দায়ের করে। মাদক পাচারের বেআইনি আর্থিক লেনদেন কীভাবে হয়েছে, তা জানতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গোয়া, মহারাষ্ট্র, কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, ওড়িশা এবং দিল্লি–সহ দেশজুড়ে ২৬টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৯

প্রায় এক বছর আগে গোয়ায় বিপুল পরিমাণে লাইসারজিক অ‍্যাসিড ডাই-ইথালামাইড (এলএসডি) ব্লট উদ্ধার করে গোয়া পুলিশের গোয়েন্দারা। ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মাদক পাচার মামলায় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এক বছর পরে সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার ইডির আধিকারিকেরা দেশের ২৬টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায়। উদ্ধার করা হয়েছে মাদক এবং বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম।

গোয়া পুলিশের পুরোনো এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি ইসিআইআর দায়ের করে। মাদক পাচারের বেআইনি আর্থিক লেনদেন কীভাবে হয়েছে, তা জানতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গোয়া, মহারাষ্ট্র, কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, ওড়িশা এবং দিল্লি–সহ দেশজুড়ে ২৬টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়।

একটি সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে। ইডির দাবি, গোয়া, হিমাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, ওড়িশা ও কেরালা–সহ একাধিক রাজ্যে মাদক পাচারের বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তল্লাশির সময় ইডি নগদ টাকা, গাঁজা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক, অপরাধ সংক্রান্ত নথি এবং কিছু ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে। ইডি জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম ও নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এমডিএমএ, এক্সট্যাসি, হ্যাশ, কুশ, শুমস, রাশল ক্রিম, কোকেন, সুপার ক্রিম দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ সরবরাহ করার কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে চক্রটি। এরা মাদক পরিবহনের জন্য কুরিয়ার ও ডাক পরিষেবাকে ব্যবহার করেছে। অপরাধের মাধ্যমে আদায় করা অর্থ ইউপিআই, ব্যাঙ্ক এবং নগদ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে হত।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী, তাদের সহযোগী ও মধ্যস্থতাকারীদের এতে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।  তারাই অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। ইডি সূত্রের খবর, জটিল আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে মাদক পাচারের টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার কিছু ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গোয়ায় বিপুল পরিমাণে এলএসডি ব্লট উদ্ধার করে গোয়া পুলিশের মাদকপাচার দমন শাখার গোয়েন্দারা। এলএসডি ছাড়াও গাঁজা, হেরোইন, কোকেন এবং ডাই-মিথাইলট্রিপটামিন (ডিএমটি) উদ্ধার করা করা হয়। মাদক পাচারের অভিযোগে মধুপণসুরেশ শশীকলা-সহ ছ’জনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে এক হাজার ৮২৫টি এলএসডি ব্লট পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এক কোটি ১০ লক্ষ টাকার বেশি মাদক পুলিশ উদ্ধার করে। মাদক মামলায় তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গোয়া পুলিশ এই অভিযানকে ‘সবচেয়ে বড় এলএসডি ব্লট উদ্ধারের’ ঘটনা বলেও উল্লেখ করেছিল।

পরবর্তী তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তেরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ‘ডার্ক নেট’ ব্যবহার করত। তা ব‍্যাবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদক সংগ্রহ করত। এর পরেই দেশের বিভিন্ন বড় শহরগুলিতে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করত তারা।


Share