Union Budget

দেশব্যাপী জনগণনায় গত বারের থেকে ছয় গুণ বাড়ল বরাদ্দ, ছ’হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করল কেন্দ্রীয় সরকার

জনগণনা ২০২৭-এর মোট অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা এবং এনুমারেশন দিয়ে স্ব-গণনার সুযোগ—এই দুটি বিষয়ই এ বারের জনগণনার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৮

প্রায় ছ’বছর বিলম্বের পর অবশেষে ২০২৭ সালে শুরু হতে চলেছে দেশের ১৬তম জনগণনা বা আদমশুমারির কাজ। রবিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশ করেছেন। জানা গিয়েছে, সেই কাজের জন‍্য ছ’হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গোটা প্রক্রিয়াটি ডিজিটালি করার দিকে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে আদমশুমারির কাজ আদমশুমারির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পেশ করা ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট অনুযায়ী, রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ছ’হাজার কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

গত অর্থবর্ষে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এ বারের বরাদ্দ প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অর্থের মধ্যে রেজিস্টার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনার দফতরের ব্যয়, জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা সংক্রান্ত কাজ এবং ২০২৭ সালের জনগণনার যাবতীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জনগণনা পরিচালিত হবে ২০২৭ সালে। তবে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ‘রেফারেন্স ডেট’ ভিন্ন হবে। লাদাখ জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের নির্দিষ্ট অঞ্চলের এলাকাগুলিতে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর রাত ১২টা ‘রেফারেন্স ডেট’ নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বাকি অংশে ‘রেফারেন্স ডেট’ হবে ২০২৭ সালের ১ মার্চ রাত ১২টা।

দেশব‍্যাপী জনগণনা কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রায় ৩০ লক্ষ গণনাকারী। সুপারভাইজার এবং প্রায় ১.৩ লক্ষ সেনসাস কর্মী। সকলেই তথ্য সংগ্রহের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করবেন বলে জানা গিয়েছে।

জনগণনা হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপ, হাউসলিস্টিং অপারেশন (এইচএলও)-এ প্রতিটি পরিবারের বাসস্থান, সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই ধাপে মোট ৩৩টি প্রশ্ন থাকবে। জনগণনার আগের ১৫ দিন নাগরিকদের এনুমারেশন জমা দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপে জনসংখ্যা গণনা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই পর্যায়ে প্রতিটি ব্যক্তির জনসংখ্যাগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই ধাপেই জাতি গণনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

সূত্রের খবর, জনগণনা ২০২৭-এর মোট অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা এবং এনুমারেশন দিয়ে স্ব-গণনার সুযোগ—এই দুটি বিষয়ই এ বারের জনগণনার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


Share