UGC Norms

‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও জাতপাতমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা ব্যর্থ’, ইউজিসির নতুন নিয়মে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কথায়, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিংয়ের মতো ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে আসা ছেলেমেয়েরা তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পা রাখেন। তাঁদের সেই সংস্কৃতির সঙ্গে যাঁরা পরিচিত নন, তাঁরা টিপ্পনি-কটুক্তি করার অভিযোগ আসে।

ইউজিসি-র নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:১৭

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তফসিলি এবং অনগ্রস শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এ হেন নির্দেশিকা বাকিদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক। তা নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে মামলা হয়। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানির পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশিকায় দেশের শীর্ষ আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন নির্দেশিকা অত্যন্ত অস্পষ্ট। তার অপব্যবহার হতে পারে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবও চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশিকার প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, "স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও জাতপাতমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা পারলাম না।” এর পরেই কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রধান বিচারপতি প্রধান প্রশ্ন করেন, “আমরা কি ক্রমশ পশ্চাদমুখী হয়ে পড়ছি?"

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কথায়, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিংয়ের মতো ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে আসা ছেলেমেয়েরা তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পা রাখেন। তাঁদের সেই সংস্কৃতির সঙ্গে যাঁরা পরিচিত নন, তাঁরা টিপ্পনি-কটুক্তি করার অভিযোগ আসে। তিনি বলেন, “আপনারা এখন আলাদা হস্টেলের কথা বলছেন। ঈশ্বরের দোহাই আপনাদের। সমাজে এখন ভিন্ন জাতের বিয়েও হয়। আমরাও হস্টেলে থেকেছি। একসঙ্গেই থেকেছি।"

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার অপব্যবহার হতে পারে বলেও এ দিন মন্তব্য করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, "এই নির্দেশিকার অপব্যবহার হতে পারে। নির্দেশিকায় যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তাতেই অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়।"

বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে একটি কমিটি গড়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে সমাজে কোনও রকম বিভাজন সৃষ্টি না হয় তা দেখতে বলা হয়েছে। সকলকে উন্নয়নে শামিল করতে হবে। আপাতত ২০১২ সালের নিয়মই চালু থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আগামী ১৯ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। যাতে বলা হয়, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, আর্থিক ভাবে দুর্বল এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে জাত বা তাঁদের সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু ওই নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, সংরক্ষণের আওতায় না থাকা পড়ুয়া, এমনকী উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের সঙ্গেও তো এমন বৈষম্য হতে পারে। প্রশ্ন ওঠে, তাঁদের ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা কেন থাকবে না?

এ ছাড়াও, কমিশনের নির্দেশিকায় অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগও দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে কারও উপর রাগ থাকলে, প্রতিহিংসাবশত কারণেও এই নিয়মের অপব্যবহার হতে পারে। মূলত অসংরক্ষিত তালিকাভুক্ত, উচ্চবর্ণের পড়ুয়ারা এর বিরুদ্ধে সরব হন।

কেন্দ্রের এমন নির্দেশিকা পরে প্রশ্ন ওঠে। অসংরক্ষিত পড়ুয়ারাও যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন, অভিযুক্তরা যাতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান, সেই ব্যবস্থা করা যায় কি না, তার আশ্বাসও দেন বিজেপি নেতৃত্বের কেউ কেউ। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন প্রতিবাদী পড়ুয়ারা। শেষ পর্যন্ত মামলা ওঠে আদালতে।


Share