Maoist Encounter

ওড়িশার জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই, নিকেশ মাওবাদী জঙ্গি নেতা গণেশ উইকে, মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকার বেশি

ঘটনাস্থল থেকে ইনসাস রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, একটি রিভলভার এবং যোগাযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। যদিও ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্য আহত হননি। এলাকায় আরও কোনও মাওবাদী লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

ওড়িশায় গুলির লড়াইয়ে নিকেশ ছ’জন মাওবাদী জঙ্গি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:২৩

ওড়িশার জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিকেশ মাওবাদী জঙ্গি নেতা গণেশ উইকে। গণেশ সিপিআই (মাওবাদী) জঙ্গি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিল। তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে আরও এক মহিলা-সহ পাঁচ মাওবাদী জঙ্গি নেতাকে নিকেশ করা হয়েছে। সেই ‘সুসংবাদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে। 

বুধবার রাতে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাওবাদীদের গতিবিধি সম্পর্কে খবর পেয়ে কন্ধমাল জেলায় অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তার ভিত্তিতে বেলঘর থানার এলাকার গুম্মা জঙ্গলে ওড়িশা পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি)-এর একটি ছোট দল জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে কন্ধমাল ও সংলগ্ন গঞ্জাম জেলার জঙ্গলে এসওজি, সিআরপিএফ এবং বিএসএফ-এর মোট ২৩টি দল মোতায়েন করা হয়। সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। 

গণেশ উইকে জঙ্গি সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।ওড়িশায় সংগঠনের কার্যকলাপের প্রধান ছিল। ফলে গণেশকে অনেক দিন ধরেই পুলিশ খুঁজছিল। তার মাথার দাম ছিল এক কোটি ১০ লক্ষ টাকা। বাকিদের মধ‍্যে রয়েছে বাড়ি ওরফে রাকেশ এবং অমৃত। রাকেশ সিপিআই (মাওবাদী)-র এরিয়া কমিটির সদস্য ছিল। অমৃত মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের দলম (সশস্ত্র ইউনিট)-এর সদস্য। রাকেশ এবং অমৃতের দু’জনেই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। সম্মিলিত ভাবে তাদের মাথার দাম ছিল মোট ২৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষস্থলের কাছ থেকে আরও এক মহিলা মাওবাদী জঙ্গির দেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি বলে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি দু’জনেরও পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। 

ঘটনার খবর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শাহের মন্ত্রক জানিয়েছে, “নকশালমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ওড়িশার কন্ধমালে চালানো এক বড় অভিযানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গণেশ উইকেসহ এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে নিকেশ করা হয়েছে। এই বড় সাফল্যের ফলে ওড়িশা নকশালবাদমুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। আমরা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

ঘটনাস্থল থেকে ইনসাস রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, একটি রিভলভার এবং যোগাযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। যদিও ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্য আহত হননি। এলাকায় আরও কোনও মাওবাদী লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।


Share