Delhi Riot Case

জাতীয় নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে ব‍্যক্তিস্বাধীনতা নয়! দিল্লি হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদের জামিন খারিজ হল সুপ্রিম কোর্টে

এই জামিন মামলায় বাকি পাঁচ অভিযুক্ত, গুলফিশা ফতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ, উমর এবং শারজিলের চেয়ে তা আলাদা। সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমান হিসাবে দেখা ঠিক হবে না। তবে এই পাঁচ অভিযুক্তের জামিনের শর্তও বেধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

দিল্লি হিংসার মামলায় জামিন খারিজ দুই অভিযুক্তের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৪০

২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধীতায় দিল্লিতে হিংসা ছড়িয়েছিল। শারজিল ইমাম, উমর খালিদ-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ‍্যে শারজিল এবং উমরের জামিন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব‍্যক্তিস্বাধীনতা কখনই জাতীয় নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে হতে পারে না। তবে বাকি পাঁচ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার ঘটনায় অভিযুক্তদের জামিন মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি হয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব‍্যক্তিস্বাধীনতা কখনওই জাতীয় নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগের ঊর্ধ্বে নয়। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে নয় বরং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্তে ব্যবহার করা হয়। 

দিল্লির ঘটনার মূল অভিযুক্ত এই উমর খালিদ এবং শারজিল আহমেদ। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লির হিংসার ঘটনায় উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম যে ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনা করেছিল, তা জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বিচার-পূর্ব দীর্ঘ কারাবাসের উদ্বেগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদের জামিন এখনই দেওয়া হবে না বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত। তাদের জামিন আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। 

২০২০ সালে দিল্লিতে হিংসার ঘটনা পর থেকে ছ’বছর ধরে জেলে রয়েছে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত বলেছে, উমর এবং শারজিল অন্তত এক বছর পরে জামিনের আবেদন করতে পারবে। এই মামলায় সুরক্ষিত সাক্ষীদের পরীক্ষা এখনও পরীক্ষা করা বাকি রয়েছে। তা যদি এক বছরের মধ্যে হয়ে যায়, তাহলে শারজিল এবং উমর নতুন করে জামিন আবেদন করতে পারবে। তা সম্পূর্ণ নতুন হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমানের নির্দেশ ওই জামিনের আবেদনকে প্রভাবিত করতে পারবে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই জামিন মামলায় বাকি পাঁচ অভিযুক্ত, গুলফিশা ফতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ, উমর এবং শারজিলের চেয়ে তা আলাদা। সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমান হিসাবে দেখা ঠিক হবে না। তবে এই পাঁচ অভিযুক্তের জামিনের শর্তও বেধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 

অতীতে জামিনের শুনানি মামলায় অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের সওয়াল, “এটি নাগরকিত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-র বিরুদ্ধে কোনও সাধারণ ধর্না ছিল না। এটি করা হয়েছিল সরকার বদলে দেওয়ার জন্য। যাঁরা ধর্নায় গিয়েছিলেন, তাঁদের সকলের হাতে লাঠি, অ্যাসিডের বোতল ছিল!” এমনকী, পরিকল্পিত ভাবেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময়েই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি। রাজুর কথায়, “তারা (অভিযুক্তেরা) বাংলাদেশ এবং নেপালের মতো সরকার বদলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ব‍্যার্থ হয়ে গিয়েছে। সংবিধানের প্রতি তাদের বিশেষ শ্রদ্ধা নেই।” অভিযুক্তদের ‘শিক্ষিত জঙ্গি’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।


Share